বগুড়ায় দুটি সরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৪১১ জন। তাদের মধ্যে একাধিক ভর্তির আবেদন করায় ২৩৬ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বগুড়া জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন আবেদন বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি তালিকা থেকে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিকবার আবেদন করেছেন ৫ জন। এর মধ্যে প্রভাতী শাখায় দুই জন আর দিবা শাখায় তিন জন। দিবা শাখায় একজন ১৫৬ বার এবং অপর দু'জনের মধ্যে একজন ১১০ এবং আরেকজন ১২৪ বার ভর্তির আবেদন করেছে। এ ছাড়া প্রভাতী শাখায় ৩৩ জনের এক হাজার ৪০৫টি আবেদন জমা পড়েছে এবং দিবা শাখায় ৩৫ জনের আবেদন জমা পড়েছে এক হাজার ১২০ বার।
এদিকে, বগুড়া জিলা স্কুলে ভর্তির জন্য নির্বাচিত ২৫ শিক্ষার্থীর নামে কোনো আবেদনই জমা পড়েনি। এ ছাড়া, এক শিক্ষার্থীর নামে ৭৭ বার আবেদনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর অনেক শিক্ষার্থীর নামে ৩০ থেকে ৪০ বার আবেদন করা হয়েছে।
বগুড়া শহরের দুটি সরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ডিজিটাল লটারিতে নাম ওঠা ৪১১ জনের তালিকা থেকে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ১৫৩ জন। একাধিকবার আবেদন জমা দেওয়া এবং বয়স বেশি বা কম হওয়ার জন্য নতুন করে বাদ পড়েছে ২৩৬ জন। এ নিয়ে মোট বাদ পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হলো ২৫৮জন।
বগুড়া জিলা স্কুলে ২০৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে মাত্র ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রভাতী শাখায় ৩৭ জন এবং দিবা শাখায় ২৮ জন। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০৬ জনের মধ্যে ভর্তি হতে পারবে প্রায় ৮৮ জন। প্রভাতী শাখায় ৫০ জন এবং দিবা শাখায় ৩৮ জন।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে জিলা স্কুল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একাধিকবার আবেদন করে লটারিতে স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে, পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে তাদেরকে স্কুল ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী বলেন, ‘মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আবেদনের ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের আবেডোণ বাতিল করেছি। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির সুযোগ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এসে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন। আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি, লটারির বিষয়টি আমাদের এখতিয়ার নয়। বিষয়টি সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের। সবকিছু তাদের নির্দেশেই হচ্ছে।’
জিলা স্কুল সূত্র বলছে, ‘বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থীর আবেদন এসেছিল। এদের মধ্যে ২০৬ (প্রভাতী ও দিবা) জনকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এক শিক্ষার্থীর আবেদন একাধিকবার থাকায়, যারা জালিয়াতির সুযোগ নিয়েছে তাদের ভর্তি বাতিল করে ‘অপেক্ষমান’ শির্ক্ষাথীদের ভর্তি নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ৫৪ জনকে বাছাই করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। সকালে নতুন আরও ৩ জনকে পাওয়া গেছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের বাকবিতণ্ডার ব্যাপারে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে, আবেদন বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে আলোচনা শেষে তাদের ডিসি অফিসের মাধ্যমে মাউশির কাছে ফের আবেদন করতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানিয়েছেন, ‘ছেলেকে জিলা স্কুলে ভর্তি করাতে আমি ১০ বার আবেদন করেছিলাম। তার নাম লটারিতে ৩ বার এসেছে। বিষয়টি আমার উচিত হয়নি। কিন্তু এখন আমরা এটার সমাধান চাই।’
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ওয়েবসাইটে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল লটারি পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম বিষয়ে একটি নোটিশ প্রকাশিত হয়। সেখানে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নং নির্দেশনায় বলা হয়, আবেদনকারী তথ্য পরিবর্তন করে একাধিকবার আবেদন করে থাকলে ডিজিটাল লটারিতে তার ভর্তির নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সাথে সেই শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধান কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে পারবেন না।