৩০১তম দিনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জেনে নিন সর্বশেষ পরিস্থিতি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। গতকাল বুধবার যুদ্ধের ৩০০-তম দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ ৩০১-তম দিনে গড়িয়েছে। আসুন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া যাক।

কূটনৈতিক পরিস্থিতি

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির সফরের মূল উদ্দেশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দেখা করা। এছাড়া মার্কিন সংসদ কংগ্রেসেও ভাষণ দেবেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য ১৮০ কোটি ডলারের নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করবে। এই প্যাকেজে থাকবে নগদ আর্থিক সহায়তা ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইউক্রেনকে আরও ৪৫০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার একটি বিশাল প্যাকেজ দেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, ইউক্রেনে জরুরী ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য তারা ৬১০ মিলিয়নের একটি অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন যেকোনো পরিস্থিতিতে কিয়েভকে সমর্থন করে যাবে। তিনি আরও জানান যে, ইউক্রেনে নতুন করে হামলা জোরদার করার বিষয়ে রাশিয়ার ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, শত শত ড্রোনের বিনিময়ে ইরানকে উন্নত সামরিক উপাদান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। ইরান ও রাশিয়ার এই গোপন লেনদেন ফাঁস করার জন্য আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে পশ্চিমাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতির প্রধান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, তেহরানের উচিৎ রাশিয়ার প্রতি সামরিক সহায়তা এবং ইরানে অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করা।

যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি

ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলকৃত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি খুবই কঠিন বলে স্বীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন রাশিয়ার সীমানা শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি গত মঙ্গলবার বাখমুত শহর পরিদর্শন করে সৈন্যদের প্রশংসা করেছেন। যেখানে ইউক্রেনের যোদ্ধারা রাশিয়ান সেনাদের বর্বর হামলা প্রতিহত করছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার পর রাজধানী কিয়েভে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকেরও কম ছিল। ফলে শহরটির বেশিরভাগ এখনো অন্ধকারে রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল বলেছেন, রাশিয়া শীঘ্রই তাদের দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালাবে। সেই হামলার জন্য প্রস্তুতি নেয়া উচিৎ। তিনি বলেন, বড়দিন এবং নববর্ষের ছুটিতে রাশিয়া ইউক্রেনীয়দেরকে অন্ধকারে ফেলে রাখতে চায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ তথা ১ কোটিরও বেশি মানুষ মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।