সরিষার তেলে চুলের যত্ন

সরিষার তেল রান্না ছাড়াও ঠান্ডার চিকিৎসা, ত্বক মসৃণ, শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায়।  তেমনি চুলের যত্নে সরিষা তেলের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। সরিষার তেলের নানা গুণাগুণ জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ খালেদা পারভীন সিনথিয়া

চুলের যত্নে সরিষার তেল খুব একটা ব্যবহার করতে দেখা যায না।  কিন্তু সরিষার তেলে রয়েছে মিনারেল, আয়রন, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন-ই যা চুল পড়া রোধ করে। সরিষার তেলে জিঙ্ক, বিটা ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় চুল দ্রুত লম্বা হয়। এছাড়াও সরিষার তেলে অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান খুশকি দূর করে ও চুলকানি থেকে রক্ষা করে। মাথার স্ক্যাল্পে সরিষার তেল ব্যবহার করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও চুলের গোড়া মজবুত হয়।

কেন ব্যবহার

          প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে সরিষার তেল দারুণ উপকারী। আলফা ফ্যাটি অ্যাসিড সরিষার তেলে থাকায় চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। এছাড়া কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। ফলে চুল দ্রুত বাড়ে ও মজবুত হয়।

          চুল বেশি পড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। সরিষার তেল চুলে নিয়মিত ব্যবহারে ফলিকল মজবুত হয় ফলে চুল পড়া বন্ধ করে।

          তেলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

          যদি চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ হয়ে যায় তবে মাথার তালুতে নিয়মিত সরিষার তেল দেওয়া ভালো। ফলে মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালন ঠিকভাবে হয় এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়ে চুল পড়া বন্ধ করবে।

          সরিষার তেলে অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান বিদ্যমান থাকায় স্ক্যাল্পে খুশকি ও চুলকানি দূর করে। যদি ফাঙ্গাসে চুলের গোড়া বুজে গিয়ে চুল পাতলা হয় তবে তার সমাধান করে সরিষার তেল। এছাড়া নিযমিত ব্যবহারে চুল পাকা রোধ করবে।

          সরিষার তেল ভিটামিন ও খনিজে পরিপূর্ণ এবং বিশেষ করে এতে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এই বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়ে চুলের বৃদ্ধির পাশাপাশি অকালে চুল সাদা হওয়া রোধ করে। রাতে চুলে সরিষার তেল ম্যাসাজ করে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল কালো হবে।

কীভাবে ব্যবহার

সরিষার তেল ও অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে মাসাজ করে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। আবার সরিষার তেল, লেবুর রস ও ধনে গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে সপ্তাহে তিনদিন মাস্ক হিসেবে চুলে ব্যবহার করুন। আধা ঘণ্টার মতো এই মাস্ক রেখে চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল মজবুত, কন্ডিশন এবং খুশকিমুক্ত হবে। পাশাপাশি চুল পড়া রোধ হবে।