ঘন কুয়াশা আর শীতে নাটোরসহ উত্তরবঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই কুয়াশায় আচ্ছন্ন নাটোরের সিংড়া এলাকা। শনিবার ঘড়ির কাটায় বেলা ১০টা বাজলেও সূর্যের দেখা নাই। বেলা যত বাড়ছে ততই কুয়াশা বাড়ছে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ঘন কুয়াশার প্রতিটি সকাল বলছে উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত। জীবিকার সন্ধানে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ সাধ্য অনুযায়ী গায়ে জড়িয়ে নিচ্ছেন গরম কাপড়। কারও কারও গরম কাপড় না থাকায় হালকা কাপড় পরে বেরিয়ে পড়ছেন কাজের সন্ধানে।
গত সপ্তাহে ৩ দিন কুয়াশা আর শীতের পরে কয়েকদিন ছিল উঞ্চ আবহাওয়া। হঠাৎ করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আবার তাপমাত্রা কমতে থাকে।
হঠাৎ চলে আসা এই ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। অনেকে অসুস্থ হতেও শুরু করেছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। দিন দিন তাপমাত্রা আরও কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নাটোরের সিংড়ায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় আত্রাই নদী ও চলবিলাঞ্চলের মানুষের কষ্ট বেড়েছে নিদারুণ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। হাঁপানি, অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
সিংড়া পৌরসভার চকসিংড়া মহল্লার আব্দুল মান্নান জানান, প্রচুর শীত পড়ছে। শীতের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। সকাল ১০টাতেও সূর্যের দেখা নেই।
বড়িয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা পড়েছে। সূর্যের দেখা নাই। শীত বাড়লে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট হয়।
পুঠিমারি গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, আজকে কুয়াশা ও প্রচন্ড শীতে জমিতে যেতে পারিনি। এমন কুয়াশা স্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতি হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি মেডিকেল অফিসার ডা. মইনুল হক রিকো বলেন, ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। গত সপ্তাহে ২৫-৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছে।