পুতিনের ‘যুদ্ধ’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাস্তবতা’

ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করে। এতে  সার্বভৌমত্বের উদ্বেগে থাকা রাশিয়া প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে ব্যাপক সেনাসমাবেশ ঘটায় যা পরে রূপ নেয় যুদ্ধে। এ-বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে এতদিন ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে এসেছে রাশিয়া। রুশ যুক্তি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে সামরিকীকরণমুক্ত এবং নব্য নাৎসিদের দ্বারা দেশটির রুশভাষীদের ওপর চালানো নিপীড়ন বন্ধেই এই বিশেষ সামরিক অভিযান। পুতিন ইউক্রেনে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে রাশিয়া এই সংঘাতকে দাপ্তরিকভাবে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে আসছে। এই অভিযানকে ‘যুদ্ধ’ বলা বিভ্রান্তিকর এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য করে একটি ডিক্রিও জারি করা হয়। 

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন নিজেই ‘যুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। ‘যে কোনোভাবেই হোক আলোচনার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ অবসানের’ কথা বলেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘কিয়েভে আমাদের প্রতিপক্ষরা যত দ্রুত এটা বুঝতে পারবে, ততই মঙ্গল।’   

শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-কে ‘যুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করাকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কটাক্ষ করার সুযোগ হাতে পায় যুক্তরাষ্ট্র। পুতিনকে বাস্তবতা স্বীকার এবং দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই যুদ্ধে মূল পশ্চিমাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র।  

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকি বিশ্ব জানত যে, পুতিনের ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ ছিল বিনা উসকানিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একটি অন্যায্য যুদ্ধ। অবশেষে ৩০০ দিন পর পুতিন এটিকে যুদ্ধ বললেন। বাস্তবতা স্বীকার করার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে, আমরা তাকে ইউক্রেন থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করে এই যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানাই।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, পুতিনের পরিভাষা যাই হোক না কেন, ‘তার সার্বভৌম প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে মৃত্যু, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।’

রাশিয়া অবশ্য বরাবরই বলছে, যুদ্ধের অবসানে আলোচনায় বসার আগে ইউক্রেনই পূর্বশর্ত দিচ্ছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়াকে অবশ্যই তাদের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে এবং তাদের দখল করা সমস্ত অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের এই সেনা প্রত্যাহার ও দখল করা অঞ্চল ছেড়ে দিতেই যত আপত্তি পুতিনের। ইউক্রেনের চার অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ ফেডারেশনের হয়ে গেছে আগে এই বাস্তবতা মেনে নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছে রাশিয়া। এই বাস্তবতা মেনেই ইউক্রেন ও এর মূল মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার কথা ভাবতে বলছে ক্রেমলিন। যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়াকে ‘বাস্তবতা’ মানতে বলার আগেই রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাস্তবতা হলো সেখানে এখন রুশ ফেডারেশনের নতুন চারটি অঞ্চল রয়েছে। আর এই বাস্তবতাকে আমলে না নিয়ে, এ সংঘাতের কোনো অগ্রগতি অসম্ভব।’ মস্কো ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় চারটি অঞ্চলদোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসনকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ না করলেও গণভোটের আয়োজন এবং সেই ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি করে।