দিল্লিতে রাহুলের ‘প্রেমের দোকান’

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশের পর ঐতিহাসিক লালকেল্লায় দেওয়া বক্তৃতায় এই অভিযোগ করেন তিনি। 

এর আগে শনিবার ভোরে উত্তর প্রদেশের ফরিদাবাদ থেকে দিল্লিতে প্রবেশ করে রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রা। দিল্লির কাছাকাছি পৌঁছে বিজেপির ধর্মীয় বিদ্বেষের রাজনীতির দিকে ইঙ্গিত করে রাহুল কর্মী-সমর্থকদের বলেন, ‘এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো, সর্বব্যাপী ঘৃণার বাজারে (নফরতকি বাজার মে) প্রেমের দোকান খোলা (মহব্বতকি দুকান)।’

ভারত জোড়ো যাত্রা শুরুর পর সম্প্রতি হিমাচলে বিধানসভা নির্বাচনে জয় পায় কংগ্রেস। এই সফলতায় নতুনভাবে উজ্জীবিত ভারতের সবচেয়ে পুরনো দলটি। হিমাচলে জয়ের হাওয়া লেগেছে রাহুলের এই যাত্রায়। তাই কেন্দ্রীয় সরকার রাহুলকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেও বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের মিছিল নিয়ে দিল্লিতে আসেন তিনি। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রও শনিবার সকালের দিকে ভারত জোড়ো যাত্রায় যোগ দেন। পরে লালকেল্লার কাছাকাছি পৌঁছালে মিছিলে যোগ দেন দেশটির জনপ্রিয় অভিনেতা কমল হাসান।

লালকেল্লায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশের মূল সমস্যাগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর জন্য ২৪ ঘণ্টাই হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ যাত্রায় ২৮০০ কিলোমিটার হেঁটেছি। কিন্তু কোনো ঘৃণা দেখিনি। টিভি চালু করলেই সহিংসতা দেখতে পাই।’ গণমাধ্যমে বিজেপি প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম আমাদের বন্ধু। কিন্তু আমরা যা বলি বাস্তবে তা কখনই দেখায় না। কারণ পেছনের মঞ্চ থেকে আদেশ আসে। তবে এই দেশ ঐক্যবদ্ধ। এই দেশের প্রত্যেকে মিলেমিশে থাকতে চায়।’ 

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক দল মাক্কাল নিধি মাইয়ামের (এমএনএম) প্রতিষ্ঠাতা ও অভিনেতা কমল হাসান বলেন, ‘প্রথম দিকে লোকজন আমার কাছে এসে কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রায় যোগ দেওয়াকে ভয়াবহ রাজনৈতিক ভুল বলে সতর্ক করে দিয়েছিল। তখন আমি নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলাম। আমার অন্তর বলেছিল, কমল, ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য কর, ভাঙতে নয়। এই সময়ে তোমাকে দেশের প্রয়োজন।’ তামিলনাড়ু থেকে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভারত জোড়ো যাত্রা শুরু করেছিলেন রাহুল। আজ রবিবার থেকে আট দিনের জন্য যাত্রাবিরতি করবে কংগ্রেস। পরে ৩ জানুয়ারি থেকে এই যাত্রা শুরু হয়ে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব অতিক্রম করবে। শেষ হবে জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে।