দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুশিল্পী ও বাঁশিবাদক জুয়েল আইচ। বড়দিনের পরিকল্পনা ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
বড়দিন...
সত্যি বলতে, এখন আর আগের মতো বড়দিনে বড় পরিকল্পনা করা হয় না। গত কয়েক বছর করোনার কারণে বড়দিনের সেভাবে কোনো পরিকল্পনাই করা হয়নি। পরিবারের সঙ্গেই পুরোটা সময় কাটিয়েছি। ঢাকাতে খুব একটা আত্মীয়-স্বজনও নেই। তাই তাদের নিয়েও আলাদা কোনো পরিকল্পনা থাকে না। তবে আমার বড়দিন অসাধারণ করে দেন ভক্ত ও শুভাকাক্সক্ষীরা। রাজধানীর অভিজাত হোটেলের তরফ থেকে দাওয়াত পাই। বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসায় কেক আসে। সেগুলো কেটেই বড়দিন উদযাপন করি। নিজেদের মতো করে ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, পর্দা, কুশনকভার বদলানো এগুলো তো হয়ই। কিন্তু আলাদা করে ক্রিসমাস ট্রি এনে সাজানো হয় না অনেক দিন।
পরিকল্পনা...
বড়দিনে একটি কাজ খুব গুরুত্বের সঙ্গে করি। আমি যেহেতু উত্তরার বাসিন্দা, তাই উত্তরা ক্লাব আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর ক্লাবটির ইলেকশন হয় ২৫ ডিসেম্বরে। সেটিতে আমি অংশ নিই। এবারও অংশ নেব। এছাড়া এবার বড়দিনেই বিটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হবে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে অংশ নেব আজ সকালে।
ধর্মীয় অনুভূতি...
আমি মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী। সত্যিই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ফলে ঈদ, পুজো, বড়দিন, থার্টিফার্স্ট নাইট সবকিছুতেই আমার আনন্দ করতে ভালো লাগে। এগুলো তো একটা অনুভূতির জায়গা, বিশ্বাসের জায়গা, অভ্যাসের জায়গা। তাই মানসিকভাবে আমি খুব আনন্দ অনুভব করি। যদিও থার্টিফার্স্ট নাইটে অনেক বছর হলো গাড়ি নিয়ে বের হই না। একবার গাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েছিলাম।
কাটছে সময়...
আমি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। তারপর থেকে অনুভব করছিলাম, স্মৃতিশক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে। আগের মতো অত মনে রাখতে পারছিলাম না। তারমধ্যে আবার হাতে একটু ব্যথাও পেয়েছিলাম। সব মিলে অনেক দিন খুব একটা কাজ করা হচ্ছিল না। তবে পড়াশুনার অভ্যাস যেহেতু বহু পুরনো, দিনের বড় একটা সময় বই নিয়েই কাটত। আর জাদু প্র্যাকটিস তো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন আবার পুরনো ছন্দে ফিরছি। একটি ভাস্কর্য নির্মাণে হাত দিয়েছি। নাম এখনো ঠিক করিনি। এর থিম কজন ক্যারেক্টার। তরুণরা একটা জায়গায় নানা ভঙ্গিতে আড্ডা দিচ্ছে। কাজটি প্রায় শেষ।
জাদু...
বলতে গেলে, এখন নিয়মিতই জাদুর শো করছি। গত ২৩ তারিখেও শো করেছি সোনারগাঁও হোটেলে। আয়োজন করেছিল ১৯৯১ সালের এসএসসি’র ব্যাচ। জানুয়ারির শুরুতেই একটি শো করব হোটেল শেরাটনে। আমার স্ত্রী বিপাশা আইচ সব সময়ের মতো আমাকে শোতে সহকারী হিসেবে সহযোগিতা করে থাকেন।
বাঁশি চর্চা...
বাঁশি বাজানো আমার পেশা না হলেও দারুণ ভালোবাসা থেকে শিখেছিলাম। চর্চাটা ছিল, এখন একটু কম। আসলে যে কোনো কিছু শেখা বা চর্চা করাটা ভালোবাসার ব্যাপার। সেটা বাঁশি বাজানো হোক, ছবি আঁকা কিংবা মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।