দুই সওজ প্রকৌশলীর দুর্নীতি তদন্তে কমিটি

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দুই তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তদন্ত করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা হলেন মো. জামাল উদ্দিন ও এ এস এম শাহরীয়ার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনকে আহ্বায়ক করে মন্ত্রণালয় থেকে কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক চিঠির সূত্র ধরে মন্ত্রণালয় এ কমিটি গঠন করে।  সংসদ সচিবালয়ের চিঠিতে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কারখানা সার্কেল, সড়ক ভবন, চট্টগ্রাম) মো. জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুনীতি, কমিশন-বাণিজ্য ও দেশে-বিদেশে বড় অঙ্কের আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার কাছে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ আছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৫তম সভায় বিশদ আলোচনা হয়। ওই সভায় তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় কমিটি থেকে পাঠানো অভিযোগে বলা হয়েছে, জামাল উদ্দিন চাকরিজীবনে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকার রামপুরায় তার ৮তলা বাড়ি আছে। এ ছাড়া আফতাবনগর, ধানম-ি, লালমাটিয়াসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে ১৭টি ফ্ল্যাট রয়েছে। দেশের বাইরে কানাডায় তার সম্পদ আছে। তদন্ত কমিটিকে আয়বহির্ভূত এসব সম্পদের তথ্য উদঘাটন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির দেওয়া ওই অভিযোগে অপর প্রকৌশলী এ এস এম শাহরীয়ারের বিরুদ্ধেও ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কথা বলা আছে। মিস্টার ১৫ পারসেন্ট নামে পরিচিত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ আছে। নামে-বেনামে খুলনা শহরে ১৪টি, ফরিদপুর শহরে ৫টি ফ্ল্যাট, ঢাকার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে ১টি ৬তলা বাড়ি, বরিশাল-পটুয়াখালী রোডে টিয়াখালী এলাকায় ২২ একর জায়গার ওপর একটি মাছের খামার, খুলনা-সাতক্ষীরা জিলেরডাঙ্গা এলাকায় ৯৪ একর জায়গায় দুটি মাছের ঘের রয়েছে। সংসদীয় কমিটি ও মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি এসব সম্পদের উৎস ও আদৌ সম্পদ আছে কি না, তা তদন্ত করবে বলেও জানা গেছে।