টেস্টে ভালো কোচ চায় বোর্ড, বিদায়ের ঘণ্টা শুনছেন ডমিঙ্গো!

বিসিবি আর রাসেল ডমিঙ্গোর সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। বারবারই শুধু অনিশ্চয়তা এসে তাকে গ্রাস করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীধরন শ্রীরামকে টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ করেছিল বিসিবি। নিয়োগের দিন বোর্ড সভাপতির সামনে ইতিবাচক থাকলেও পরবর্তীতে বোমা ফাটিয়েছিলেন। বলেছিলেন আর দেশে ফিরবেন না বলেও। তবে সব শঙ্কা দূর করে ফিরলেও আবার সেই অনিশ্চয়তা ভর করেছে তাকে। বিসিবি যে এবার টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা কোচ চায়।

সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অবশ্য বছরের শুরুটা হয়েছিল জয় দিয়ে। মাউন্ট মঙ্গানুইতে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ডমিঙ্গোর হাত ধরে এসেছিল সেই সাফল্য। তবে সেটাই শেষ, বছরের বাকি সময়ে টাইগাররা হেরেছে ৮ ম্যাচে। বছরজুড়ে এই সংস্করণে উন্নতির ছাপ দেখা গেলেও শেষটা হয়েছে হতাশার হার দিয়েই। আর তাতেই ডমিঙ্গোর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেটা আরও জোরালো হয়েছে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের কথায়।

তিনি বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ভালো আমাদের এমন একজন কোচ দরকার। ওয়ানডেতে আমরা ভালোই করছি। সেটার দিকে তাও নজর রাখা দরকার। কারণ বিশ্বকাপ খুবই কাছে, ২০২৩ সালে। এটির দিকে নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, আমরা চাই, টেস্ট দলের টিম ম্যানেজমেন্টে যারা থাকবেন, তারা যেন ইম্প্যাক্ট রাখতে পারেন।’

কোচিং প্যানেলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জালাল বলেছেন, ‘কোচের যেন দলের ওপর ইমপ্যাক্ট থাকে, দলের মধ্যে তার ইনফ্লুয়েন্স থাকে, প্রভাব থাকে। আমাদের এই ধরনের কোচ দরকার। আমার মনে হয় শিগগির আপনারা কিছু পরিবর্তন দেখতে পাবেন। দেখা যাক, চেষ্টা করছি আমরা।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরুর পর বছরজুড়ে টেস্টে হতাশই হয়েছেন টাইগার ক্রিকেটাররা। যদিও শেষ ম্যাচে এসে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে জেতার খুব কাছে গিয়েছিল। জালাল ইউনুস জানালেন, কেবল এটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকতে চান না তারা। জিততে চান র‌্যাঙ্কিংয়ের উপরের সারির দলগুলোর বিপক্ষেও, ‘আমরা অবশ্যই চাই একটা শক্তিশালী দল। মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলতে হবে, তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে হবে। এমন নয় যে আমরা টেস্ট খেলছি স্রেফ খেলার জন্য। নিচের র‌্যাঙ্কের দলের সঙ্গে জিতে খুশি হচ্ছি, আনন্দ করছি, এমন নয়। আজ যেমন ভারতের সঙ্গে, ইট ওয়াজ ভেরি ক্লোজ।’

তিনি যোগ করেন,‘যত কিছুই বলুন, ভারতের সঙ্গে জেতা কঠিন। এখানে আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের সঙ্গে জিতেছি। কিন্তু ভারত এই কন্ডিশন খুব ভালো জানে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সাথে তুলনা করলে ভারতের সঙ্গে পারা কঠিন। তবে কাছে এসে গিয়েছিলাম। এমনটি চট্টগ্রামেও, আর কিছু রান যদি থাকত, ড্রয়ের পথে যেতে পারতাম, জিতেও যেতে পারতাম। টেস্টেও আমরা ভালো করেছি, সর্বাত্মক চেষ্টা করছি আরও ভালো করার জন্য। অপেক্ষা করুন, কিছু পরিবর্তন হয়তো দেখতে পাবেন।’