বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ অঞ্চলের লাখো কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারেও এবার ধানের ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
আমন ওঠার শুরুতেই বরিশাল অঞ্চলের বাজারে চালের দামও কমতে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে কমেছে কেজিপ্রতি চালের মূল্য ৪ থেকে ৫ টাকা করে।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৯ দশমিক ৫৬৩ শতাংশ আমন কর্তন করা হয়েছে। ১০ লাখ ৩১ হাজার ৩৫১ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। গত বছর এই বিভাগে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ১১২ লাখ হেক্টরে আমন আবাদ করে চাল উৎপাদন হয়েছিল ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ টন। এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎপাদন গত মৌসুমের চেয়ে আরও বাড়বে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানান, চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি ও অতিবর্ষণের ফলে আমন আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়ে ছিল এ অঞ্চলের কৃষকরা। শুরুতে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বরিশালে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কৃষক মাসুদ মিয়া বলেন, এবার সাড়ে তিন একর জমিতে আমন আবাদ করেছিলাম। প্রায় ৬৫ মণ ধান পাব বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, এবার বাজারে দামও ভালো। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগেই আমন আবাদ হওয়ায় বর্ধিত ব্যয় হয়নি। তাই লাভ হবে।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ধান ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এবার আমন ধানের দাম বেশ ভালো। প্রতিমণ ইরি ধান ১ হাজার ৪০ টাকা এবং গুটি স্বর্ণা ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বরিশালের আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার সরকার আমন মৌসুমে ২৮ টাকা কেজি দরে ধান কিনবে। এ জন্য ধানের দাম বাজারে ভালো পাচ্ছে কৃষক। সরকারিভাবে এ অঞ্চল থেকে ধান ও চাল দুটোই সংগ্রহ করবে সরকার।
বরিশালের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমন মোটা ৫০ কেজি প্রতি বস্তা ২ হাজার ৬৫০ টাকা, কাজলা আমন ২ হাজার ২৫০ টাকা, দুধ কলম ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে।
নগরের পাইকারি বাজার ফড়িয়াপট্টির হাওলাদার বাণিজ্যকেন্দ্র নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চাল ব্যবসায়ী সোহরাব হাওলাদার বলেন, আমন আসার পর থেকে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি চালে ৪ থেকে ৫ টাকা মূল্য কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খুচরা বাজারে আমন মোটা চাল প্রতি কেজি ৫৮ টাকা, কাজলা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে তা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো।
বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুল হক বলেন, অক্টোবর মাসে বৃষ্টি কম হওয়ায় খরা চলছিল। তখন আমন ধানের চারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষক। ওই মাসের শেষ সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে প্রচুর বৃষ্টি হয়। আর এই বৃষ্টি তখন ধানের চারার জন্য ছিল আশীর্বাদ। সময় মতো পানি পেয়ে এবার ধানের বাম্পার ফলন ভালো হয়েছে।