মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় একটি স্লুইসগেটের অভাবে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বোরোসহ অন্যান্য ফসল আবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকিয়ে ১৫০ একর পতিত জমি চাষের আওতায় আনেন। কিন্তু সেখানে একটি সøুইসগেট নির্মাণ করা হলে পুরো এলাকা চাষের আওতায় আসবে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পানির অভাবে আমাদের প্রায় ৪০০ একর জমি চাষের আওতায় নেই। এভাবেই পড়ে থাকছে। জমিগুলো চাষের আওতায় ফেরানো গেলে অনেক পরিবারে সচ্ছলতা আসবে।
কৃষক শফিক মিয়া বলেন, ‘আমরা নালা থেকে পানি সেচ দিয়ে বোরো চাষে ব্যর্থ হই। পানির স্তর নিচে নেমে গেলে জমি নষ্ট হয়ে যায়। একটি সøুইসগেট নির্মাণ হলে পানি সংরক্ষণ সম্ভব। সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করা যায়।’
সাগরনাল গ্রামের জলিল মিয়া বলেন, ‘আমরা নিজেদের খরচে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছি। আশা করছি এ মৌসুমে বেশ কিছু জমিতে বোরো আবাদ হবে।’
সাগরনাল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রদীপ যাদব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সøুইসগেটের বিষয়টি নিয়ে কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে আমরা নিজ উদ্যোগে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছি।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাষিদের দাবি অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্লুইসগেটের জন্য প্রস্তাব করেছি। চাষিরা ইতিমধ্যে সেখানে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এতে ওই এলাকায় ১৫০ একর জমিতে নতুন করে বোরো চাষ হবে।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্লুইসগেটের কাজ শুরু করা হবে।’