পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর অধিকাংশ সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বীজতলাসহ আবাদে যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি শুকনো মৌসুমেও এই খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে না পেরে তরমুজ চাষে বিঘ্ন ঘটছে।
কৃষকেরা জানান, উপকূলীয় রাঙ্গাবালীতে ফসল আবাদের খালের মিঠা পানি সেচের মাধ্যমে কৃষকের ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। ওইসব খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় ফসল আবাদে মিঠা পানির সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। সরকারি খালের বাঁধ কেটে খালগুলোর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে একটি খাল। ভূমি কার্যালয়ের তথ্যে সরকারি এই খালটি ‘ভাঙা খাল’ নামে রয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই খালের প্রায় দুই কিলোমিটার বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। দাড়ছিড়া নদীর পাড় থেকে পূবে আড়াই কিলোমিটার অংশ বাঁধ দেওয়ায় খালটিতে ১৫টির মতো পুকুরে পরিণত হয়েছে এবং পুকুরগুলো প্রস্থে কোথাও ৪০ ফুট কোথাও বা ৬০ ফুট পর্যন্ত আর দৈর্ঘ্যে ৮০ ফুট থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত।
এলাকার আবুল গাজী নামের একজন কৃষক জানান, তাদের প্রধান ফষল হলো তরমুজ ও আমন ধান। তবে তরমুজ আবাদে ব্যাপক লাভবান হওয়ার কারণে এলাকায় কৃষক তরমুজ আবাদে বেশি ঝুকছে। এখানকার নদ-নদীর পানি লবণাক্ত। কিন্তু তরমুজ চাষের জন্য প্রয়োজন মিঠা পানি। খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় মিঠা পানির সংকটে পড়েন কৃষক। তারও ৫ একর কৃষি জমি থাকলেও মাত্র ২ একর জমিতে তিনি তরমুজ আবাদ করতে পারেন। বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে মিঠা পানির সংকটের ভোগান্তির শিকার হবেন তার মতন অনেক কৃষক।
ওই গ্রামের কৃষক দুই ভাই দুদা কাজী ও খলিল কাজী জানান, খালের পাড়ে তাদের বাড়ি হলেও প্রভাবশালীরা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে কয়েক বছর ধরে তরমুজ আবাদে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমেও পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতায় তাদের বীজতলার ক্ষতি হয়ে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের জহরউদ্দির খাল, কাটাখালীর খাল, মৌডুবি ইউনিয়নের হারির খাল, ছোটবাইশদিয়া গ্রামের ডাঙ্গার খাল, নয়াভাঙ্গুনীর খাল এবং কাউখালীর চরের মালেকার খালসহ উপজেলায় শতাধিক খালে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দখল করে রাখা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদ বলেন, কৃষি কাজের সুবিধার্থে সরকারি খালের বাঁধ অপসারণ করে খাস খালগুলো উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খালগুলোর বাঁধ কেটে উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ছয়টি খালের ২৯টি বাঁধ কেটে প্রায় ৮০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে।