পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত তিন দিন ধরে জেলার তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা সারা দেশের সর্বনিম্ন। গত শনি ও শুক্রবারও এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালে ঠা-াজনিত রোগে আক্রান্ত বয়স্ক ও শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
সন্ধ্যার পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারদিক। কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ¦ালিয়ে সাবধানে চলাচল করছে। শীতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশাচালক, দিনমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষ। কনকনে ঠা-ার কারণে তারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে তাদের রোজগার কমে গেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র অসহায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের দরিদ্র মানুষ খড়কুটা জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। জেলা শহরের ভ্যানচালক বাবুল হোসেন (৬০) বলেন, ‘সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। সকালে বাড়ি থেকে বের হলেও রাস্তাঘাটে লোকজন না থাকায় আয়-রোজগার নেই। খুব বিপদে আছি।’ সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকার দিনমজুর হায়দার আলী বলেন, ‘ঠা-ার কারণে সকালে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। বাজারে এসে কাজও পাচ্ছি না। কাজ না করলে খাব কী?’
পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আরএমও তৌফিক আহমেদ জানান, হাসপাতালের ১০০ শয্যার বেডে এখন রোগী ভর্তি রয়েছে ১৬৪ জন। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। শীত ও ঠা-াজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। অ্যাজমা ও শ^াসকষ্টের রোগীও রয়েছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান রোকন জানান, উত্তরের হিমেল বাতাসে তীব্র ঠা-া অনুভূত হচ্ছে। বর্তমানে এখানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, চলতি শীত মৌসুম সরকারিভাবে প্রাপ্ত ২৬ হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আরও ১৫ হাজার শীতবস্ত্রের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত এসব বিতরণ করা হবে।