গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের আহত হস্তী শেলবাহাদুর (হাতি) মারা গেছে। সপ্তাহ আগে এ হাতিটি মারা গেলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ তা আড়াল করেছিল।
গতকাল রবিবার বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসলে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি পার্কের লোকজন।
যোগাযোগ করলেও তারা এড়িয়ে যান বিষয়টি। পরে রাতে (রবিবার) হাতি শেলবাহাদুরের (হস্তী) মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী।
তিনি জানান, গত ২১ (২০২২) ডিসেম্বর পুরুষ হাতিটি অন্য হাতিদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে আহত হয়। পরে চিকিৎসা করা হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি।
শেলবাহাদুরের বয়স আনুমানিক ৪৮ বছর হবে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনার একদিন পর শ্রীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় হাতি মৃত্যুর বিষটি নিশ্চিত করে। ওই জিডিতে হাতিদের মারামারি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ দিকে পুরুষ হাতিটি মারা যাওয়াতে এখন পার্কে আটটি হাতি রয়েছে। যার মধ্যে দুটি নারী ও ছয়টি পুরুষ হাতি। এদের মধ্যে পার্কে জন্ম নেওয়া চারটি হাতিও রয়েছে হাতিশালায়।
এ দিকে গত বছরের শুরু দিকে আচমকা পার্কে প্রাণীদের মাঝে মড়ক দেখা দেয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অল্প কদিনের মধ্যে ১১টি জেব্রা মারা যায়।
ওই সময় একটি সিংহ মারা গিয়েছিল। যা পার্ক কর্তৃপক্ষ গোপন রেখেছিল। পরে জেব্রার মৃত্যু তদন্ত করতে এসে সিংহ মারা যাওয়ার তথ্য বের হয়ে আসে সামনে। এ নিয়ে সারা দেশে হইচই পড়ে যায়।
প্রাণীর মৃত্যুর কারণ বের করতে নানা তদন্ত দল গঠন করা হয়। বিশেজ্ঞ দল দফায় দফায় মিটিং করে পার্কের নানা অসংগতি শনাক্ত করে। পরে যে সব অসংগতি ধরা পরে তা নিরসনে নির্দেশনা দেওয়া পার্ক কর্তৃপক্ষকে।
ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলায় পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও একজন ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজারকে সরিয়ে দেওয়া হয় সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে। পার্কে প্রাণীর নিরাপত্তায় ১১টি নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরামর্শ দিয়েছিল বিশেষজ্ঞ দল।
জানা গেছে, সাফারি পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে হাতিশালায় নয়টি হাতি বসবাস করে। এদের মধ্যে প্রতিদিন কয়েকটা হাতি দিয়ে দর্শনার্থীদের খেলা দেখানো হয়। মাহুতরা হাতি নিয়ে পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের আনন্দ দেয় হাতিতে চড়িয়ে। প্রতিদিনই দুই তিনটা হাতি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। বাকিগুলো রাখা হয় হাতিশালায়। ওই হাতিশালায় গত ২১ তারিখে শেলবাহাদুর নামে একটি হাতির সঙ্গে আমির বাহাদুর নামে অন্য একটি হাতির মারামারি বাধে। এতে শেলবাহাদুর নামে ওই হাতিটি মারামারিতে জড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গত ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরিটি করেন। জিডিতে হাতিদের মধ্যে মারামারি করে আহত হয়ে হাতিটি মারা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. ইমরান হাসান বলেন, আহত হয়ে মারা যাওয়া হাতিটি পুরুষ ছিল। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত হল গঠন করা হয়েছে যা আগামী মঙ্গলবার তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবে। তদন্তের জন্য সাত কার্যদিবস নির্ধারণ করা হয়েছিল।
মৃত হাতির শরীর থেকে স্যাম্পল (নমুনা) সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।