ইসলামী আন্দোলনের সম্মেলন

নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকারের ১৯ দফা প্রস্তাব

নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকারের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে ১৯ দফা পেশ করা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকারের দাবি পেশ করতে গিয়ে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় দেশে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় থাকার জন্য আর বিরোধীদল যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মানুষ হত্যা, বিদেশিদের কাছে ধরনা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোট ডাকাতির মতো ঘৃণ্য কাজও করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব নয়। সে জন্য নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব করা হচ্ছে। জনমতের ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র ও জনপ্রশাসনের সংস্কার, অর্থনীতি-শিল্প-কৃষি ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করে স্বনির্ভর এনার্জি সেক্টর নির্মাণসহ ১৯ দফা ঘোষণা করেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় কাউন্সিলে সৈয়দ রেজাউল করীম নিজেকে আমির এবং হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ শেখকে পুনরায় মহাসচিব ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে নতুন কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের নামও জানানো হয়।

পরে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, রাজনীতি হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য হলেও এর কারণে একজন আরেকজনকে হত্যা করে, জেলে থেকে তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দেয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন এ ধরনের হিংসার, অশান্তির রাজনীতি পছন্দ করে না। বরিশালের চরমোনাইতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি যখন মারামারি, কাটাকাটি করেছে, তখন এসব দলের নেতারা বিভিন্ন কায়দায় চরমোনাইতে বহুদিন বসবাস করেছে। বিএনপির শত শত নেতাকর্মীও চরমোনাইকে বেছে নিয়ে মাসব্যাপী এখন নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

জাতীয় সম্মেলনে দেশের ৮৭টি সাংগঠনিক জেলা, ৬৯১টি উপজেলা, ১১৯টি সিটি থানা, ৬১টি সদর পৌরসভা, ৩৫১৯টি ইউনিয়ন এবং ১২ হাজার ৬৭০টি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর ও সাধারণ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থক অংশ নেন।

সম্মেলনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, জাতীয় সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টি (জাপা) গোলাম মসীহ, এস এম এস আলম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, সিনিয়র নায়েব আমির মুফতি মোহম্মদ ফয়জুল করীম, অধ্যক্ষ মহাসচিব ইউনুস আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।