মুমিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সে আল্লাহর দেওয়া সুযোগগুলো হাতছাড়া করে না। শীতকালে আমরা যেন বিশেষভাবে কিছু আমলের মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি, এজন্য পাঁচটি আমলের ব্যাপারে নিম্নে আলোকপাত করা হলো।
শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র দেওয়া : শীতের মৌসুমে অনেক মানুষই শীতে কষ্ট পান। তাই আল্লাহ যাদের সামর্থ্য দিয়েছেন তারা চেষ্টা করি, কষ্টে পড়া মানুষগুলোর কল্যাণে কাজ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সে, যে মানুষের জন্য কল্যাণের কাজে আসে, উপকার করে। শীতের সময়ে শীতার্ত মানুষকে শীতের কাপড় দেওয়া অনেক বড় উপকারের। যার অনেক সামর্থ্য আছে তিনি সাধ্যমতো বেশি খরচ করতে পারেন। যার একেবারেই কম সামর্থ্য তিনি ২০-৫০ টাকা খরচ করে একটা মাফলার বা এ রকম ছোট কিছু হলেও দান করি। যার উদ্দেশ্য হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি।
নফল ও কাজা রোজা পালন : শীতকালের দিনগুলো ছোট থাকে এবং পিপাসা কম হয়। তাই এ সময় কম কষ্টে কাজা রোজার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল রোজা পালন করতে পারি। নবী (সা.) বলেন, শীতকালের রোজা হলো অনায়াসলব্ধ গনিমত সম্পদের মতো। অর্থাৎ যে সম্পদ অর্জিত হয় খুব অনায়াসে। এজন্য আসুন, শীতকালে অল্প কিছু হলেও রোজা পালন করি। যদি কারও রমজানের রোজা কাজা থেকে থাকে। সেই কাজাগুলো এখন আদায় করা যায়।
তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় : শীতকালে রাত দীর্ঘ হয়। তাই রাত ১০-১১টার মধ্যে শুয়ে পড়লে অনেক লম্বা সময় ঘুমিয়েও ফজরের আগে ওঠা সহজ। এই বড় রাতের সুযোগ কাজে লাগানো যায় তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে। এক হাদিসের ভাষ্য এমন, ‘যে লোক কনকনে শীতের দিনে অজু করে নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তার দিকে তাকিয়ে হেসে দেন।’ কোনো আলেম এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তাহাজ্জুদেরনামাজ আবার অনেকে বলেছেন ফজরের নামাজ। অন্য হাদিসে রয়েছে, আল্লাহ ওই বান্দার দিকে তাকিয়ে হেসে দেন, তাকে তিনি মাফ করে জান্নাত দিয়ে দেন।
কষ্ট উপেক্ষা করে অজু করা : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের গোনাহ মুছে দেবেন এবং সম্মান বৃদ্ধি করবেন? তখন সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল! রাসুল (সা.) বললেন, ‘শীত বা অন্য কোনো কষ্টের সময়ে ভালোভাবে অজু করা।’ তাই আমাদের উচিত কষ্ট করে অজু চেপে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী অজু করা। অনেকেই আছেন, যারা আসরের অজু দিয়ে এশার নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। এর উদ্দেশ্যে দরকার থাকলেও পানি পান করা হয় না এবং টয়লেটও চেপে রাখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর একইভাবে নামাজের মনোযোগ নষ্ট হওয়ার জন্য দায়ী। পেশাব-পায়খানা কিংবা বায়ুর বেগ নিয়ে নামাজ আদায় করা অনুচিত। এতে নামাজের একাগ্রতা বিনষ্ট হয়।
জাহান্নামের কথা স্মরণ : হাদিস থেকে জানতে পারি, দুনিয়ায় শীত ও গ্রীষ্মকাল জাহান্নামের দুটি শ্বাস ছাড়ার কারণে হয়ে থাকে। জাহান্নামে শীত ও গরম উভয় রকম অবস্থা বিদ্যমান। আর এর প্রচ-তা কমানোর জন্য আল্লাহ একে দুটি শ্বাস ছাড়ার অনুমতি দিয়েছেন। যার ফলে দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় শীত ও গ্রীষ্মের সৃষ্টি। তাই শীতকালে আমাদের উচিত হবে, জাহান্নামের কথা স্মরণ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য করণীয় ও বর্জনীয় কাজগুলোর প্রতি দৃষ্টি রাখা।