সবুজের বিছানায় হলুদ চাদর

পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদী বিধৌত মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলসহ ফসলের মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। ভোজ‌্য তে‌লের দা‌মে না‌ভিশ্বাস হওয়ায় কদর বেড়েছে স‌রিষা আবা‌দে। সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় মাঠজুড়ে চোখজুড়ানো সৌন্দর্য ফুটে আছে। ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সামান্য পরিচর্যা আর অল্প সার ব্যবহার করে সরিষা চাষে বেশি লাভের আশা করছেন চাষিরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, যেন হলুদের চাদর বিছানো ক্ষেতজুড়ে। এলাকার বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষা ক্ষেতে ভালো ফুল এসেছে। বেশির ভাগ ক্ষেতে ইতিমধ্যেই এসেছে ফুল। কৃষকেরা ক্ষেতের আগাছা পরিস্কারসহ নানা কাজে ব্যস্ত।

শিবচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা গেছে, উপজেলায় মৌসুমী ফসলের মধ্যে প্রতিবছরই সরিষার আবাদ হয়। শীত মৌসুমে উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের ছড়াছড়ি থাকে। চলতি বছর উপজেলায় ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গত বছর যেখানে আবাদ হয়েছিল ৩ হাজার ৭৯৪ হেক্টর। ফলন ভালো হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকেরা সরিষা চাষের দিকে বেশ আগ্রহী।

কৃষকেরা জানান, কুয়াশা উপেক্ষা করে তারা (চাষিরা) সরিষা ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে এবং সার, বীজ সঙ্কট না থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। এবার সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। কয়েক দিন পরই সরিষা উঠবে ঘরে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে। বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়া রয়েছে। নতুন উন্নত জাতের উদ্ভাবনের ফলে ফলন বৃদ্ধি এবং পতিত জমিতে মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা চাষের মাধ্যমে লাভজনক হওয়ার কারণে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা সয়াবিনের চাপ কমাতে কৃষকদের সরিষা চাষের আহ্বান করেছি। তা ছাড়া কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দিয়েছি। গতবারের তুলনায় জেলায় প্রায় ২ হাজার ২ শ ৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আশা করছি তার ন্যায্যমূল্য পাবে।