মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার থেকে এ অঞ্চলে মানব পাচারকারী চক্রের সহযোগিতায় একের পর এক পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। গেল কয়েক দিনে ২৩ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয়রা।
জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলা এলাকার নালাপুঞ্জি থেকে স্থানীয়রা ৭ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ ও বিজিবির কাছে সোপর্দ করে। এরপর ১৮ ডিসেম্বর ১৭ রোহিঙ্গা আটক হয়। এর মধ্যে জুড়ীর নালাপুঞ্জি থেকে একজন ও শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের চৌমুহনা থেকে একসঙ্গে ১৬ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ।
অবৈধভাবে ভারত যেতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত এখন রোহিঙ্গাদের কাছে জনপ্রিয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গাদের ভারত পাচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে মানব পাচারকারী স্থানীয় চক্রগুলো।
শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ জানায়, গত ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি বাস থামিয়ে গাড়িতে থাকা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১৬ যাত্রীকে রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। ওইদিন ভোরে জেলার জুড়ীর নালাপুঞ্জি থেকে এক রোহিঙ্গাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আটক করা হয়। শরীফ হোসেন (২২) নামে আটক ওই রোহিঙ্গা যুবক জানান, তিনি কক্সবাজারের ১ নম্বর কুতুপালং ক্যাম্পের জাহিদ হোসেনের ছেলে।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর জুড়ীর একই এলাকা থেকে ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করে স্থানীয় জনতা বিজিবি ও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এরও আগে, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার সময় বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কুমারশাইল সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হয় ৭ রোহিঙ্গা। তারা দালালের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং থ্যাংখালী (এফডিএমএন) ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বড়লেখায় এসেছিলেন।
এর প্রায় ৩ মাস আগে ১১ জুন একই উপজেলার কুমারশাইল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের চেষ্টাকালে পুলিশ এক তরুণীসহ ৫ রোহিঙ্গাকে আটক করে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়েছিল।
তারও আগে চলতি বছরের ১২ মে মৌলভীবাজার শহরে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কের বাসস্ট্যান্ড থেকে নারী ও শিশুসহ ১৮ রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। তবে তারা ভারতে যাওয়ার পথে নয়, ভারত থেকে কুলাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে আটক হন।
সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের পার্শ্ববর্তী দেশে পালানো বা সে দেশ থেকে মৌলভীবাজারে প্রবেশ করানোর এসব ঘটনায় স্থানীয় মানব পাচারকারী চক্রগুলো জড়িত।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, রোহিঙ্গাদের সহযোগিতাকারী মানব পাচারকারী বা দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি-৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিজানুর রহমান শিকদার বলেন, দালালদের ধরা পুলিশ বা বিজিবির একার পক্ষে সম্ভব নয়। দালালদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সোচ্চার হতে হবে।