চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদী খনন প্রকল্পের বর্জ্য ফেলতে নিরীহ কৃষকদের ফসলি জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের মরমপাড়া বিশ্বাসবাড়ি এলাকায় প্রায় ২০ পরিবারের ছয় একর জমির ফসল নষ্ট করে মাটি কেটে চারপাশে বাঁধ দিয়ে নদী খননের বর্জ্য মজুদের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়েছে। হতদরিদ্র কৃষকরা অভিযোগ করেন, মাঠের সবুজ ফসল নষ্ট করে সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। তাদের আকুতিমিনতির তোয়াক্কা করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্ণফুলী নদীপাড়ের অদূরে বিশ্বাসবাড়ির মরম বিলে ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে বিশাল পুকুরের মতো তৈরি করা হয়েছে। খননকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড পাইপলাইনের মাধ্যমে সেখানে বর্জ্য ফেলছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের অনেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাদের একজন হরিলাল দাশ বলেন, ‘আমার ৪০ শতক জমির আলু ফসল কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এভাবে বর্জ্য ফেললে কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে যাবে।’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সরোয়ার আলম শাহীন বলেন, ‘অন্যায় দখল নয়। মালিকদের জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’ মাঠ কর্মকর্তা প্রকৌশলী শোভন আলী বলেন, ‘প্রকল্পের কার্যাদেশে খননকৃত বর্জ্য ফেলার নির্দেশনা নেই। নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য সংরক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
স্থানীয় কদমতলী ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আজগর বলেন, ‘কৃষকের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউল গণি ওসমানি বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান বা কেউ বিষয়টি অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলেই পদক্ষেপ নেব।’