নাটোরের সিংড়ায় একটি ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ৩৫ গ্রামের মানুষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা এবং লেখাপড়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের বখতারপুর এলাকায় পানাউল্লাহ খালের ওপর আশির দশকে নির্মিত হয় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ। ২০১৫ সালে বন্যার পানির তোড়ে প্রথমে হেলে পড়ে ব্রিজটি। পরে ২০১৮ সালে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজের দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। চলাচলের জন্য ধসে পড়া সড়কের ওপর নির্মাণ করা হয় বাঁশের সাঁকো। কিন্তু দীর্ঘদিনেও বাঁশের সাঁকোটিও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না করায় উপজেলার বখতারপুর, রানীনগর, তেলিগ্রাম, হালদারপাড়া, গোবিন্দনগর, বারোইহাটি, ডাকম-ব, ত্রিমোহনী, ঢাকঢোর, নলডাঙ্গা উপজেলা এবং আত্রাই উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩৫ গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছরেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অপরদিকে, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বখতারপুর ব্রিজ থেকে রানীনগর বটতলা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কও চলাচলের অযোগ্য। যানবাহান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষদের হেঁটেই চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকেই দূর পথ ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যানবাহন চলাচল না করায় এই অঞ্চলের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি শ্রমিকরাও বেশি মজুরি দাবি করছে। উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের মানুষদের প্রত্যাশা, দ্রুত ব্রিজটি পুনর্নির্মাণসহ তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ হোক।
নাটোর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে দেরি হচ্ছে সড়কের কাজ। তবে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।