পৌষের শেষে এসে শীতে কাঁপছে সারা দেশ। উত্তর-দক্ষিণ সব জনপদে বইছে শীতের কনকনে বাতাস। সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশাও। একই অবস্থা রাজধানী ঢাকাতেও। গতকাল শুক্রবারও সকাল থেকে রাজধানী ছিল কুয়াশায় ঢাকা। দুপুরে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার জন্য সূর্যের দেখা মেলে। এ অবস্থা আরও দুদিন থাকতে পারে, এমন আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, স্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসহ দেশের তিন অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দেশের পাঁচ অঞ্চলে বয়ে যাওয়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলতেই থাকবে।
নওগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আরও সময় ধরে চলতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, শীত আরও দুই-এক দিন থাকতে পারে। তারপরেই যে শীত কমে যাবে, সেটা বলা যাবে না। তবে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে আসবে। রাজধানী এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র শীতের অনুভূতি হতে পারে। আজ (শনিবার) দুপুরের দিকে রোদের মুখ দেখা যেতে পারে গতকালের মতো। তবে সন্ধ্যার মধ্যে আবার কুয়াশায় ঢেকে যাবে।
এদিকে গত কয়েক দিনের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘন কুয়াশার কারণে ভরদুপুরেও মিলছে না রোদের দেখা। চুয়াডাঙ্গায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সব থেকে বিপাকে পড়েছে দিন আনা খেটে খাওয়া মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশা আর শীতে অনেকে রাস্তার পাশে খড়কুটো জ¦ালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক জানান, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ও হিমেল হাওয়ার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এ তাপমাত্রা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।
রাজবাড়ীতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় : গত কয়েক দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে রাজবাড়ীর জনজীবন অনেকটাই স্থবির। খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। দরিদ্র মানুষরা গরম কাপড় পেঁচিয়ে কোনোমতে দিন পার করছেন। প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে। রাজবাড়ী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক জানান, চলতি শীত মৌসুমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২২ হাজার ৫০টি এবং এনজিও আশা থেকে ৩২৫টি কম্বল পাওয়া গেছে। যেগুলো ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
হিলিতে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ : সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে পুরোপুরি শীত জেঁকে বসেছে। সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাস শীতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তীব্র শীতের কারণে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষজন। এসব রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। রোগীদের বাড়তি ভিড়ের কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন্নাহার আজাদী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাকিমপুর উপজেলায় শৈত্যপ্রবাহের কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীদের বেশিরভাগই বয়স্ক ও শিশু।
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।