২৪ ঘণ্টা না যেতেই ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষ।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলেছে রাত দেড়টা পর্যন্ত। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলামসহ দুপক্ষের প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চবি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মিজানুর রহমান।
চবি চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক খোন্দকার মো. আতাউল গণি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অনেকে ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সহকারী প্রক্টর শহীদুল ইসলামের চোখের পাশে ইটের আঘাত লেগেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত একজনের মাথায় আঘাত বেশি থাকায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহতদের অধিকাংশ চবি'র চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পরস্পরকে দায়ী করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম শহর বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের আসনে বসা নিয়ে বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন এবং ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের তিনজন আহত হন।
এদিকে বিবদমান দুই পক্ষের নেতা বৃহস্পতিবারের মারামারির ঘটনা শান্তিপূর্ণ সমাধানে চেষ্টার কথা গণমাধ্যমকে জানালেও ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই শুক্রবার রাতে ফের সংঘর্ষে জড়ায় তারা।
চবি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা শাহজালাল হল ও সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি সড়কবাতি ভাঙচুর করেন। এরপরেই উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। রাত সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি আনে।
বৃহস্পতিবারের মারামারির ঘটনা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের কথা বলে শুক্রবার রাতে ফের সংঘর্ষে জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, বিনা উসকানিতে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীরা আমাদের (ভিএক্স) ছেলেদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়েছে। আমরাও এর পাল্টা জবাব দিয়েছি।
এর আগে, শাটল ট্রেনের আসনে বসা নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর ( বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চবি রেলস্টেশন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে তা সোহরাওয়ার্দী হল ও শাহজালাল হল পর্যন্ত গড়ায়। ওইদিনের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দুই পক্ষে বিভক্ত। এক পক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ও আরেক পক্ষ সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আবার দুই পক্ষের মধ্যে ১১টি উপ-পক্ষ আছে। গত দুই রাতে সংঘর্ষে জড়ানো সিক্সটি নাইন ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) উভয় উপক্ষই সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। এর মধ্যে ভিএক্স'র নেতৃত্বে চবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়। সিক্সটি নাইনের নেতৃত্বে আছেন চবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু।