কারাগারের জঙ্গিদের মামাবাড়ির আবদার!

গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জঙ্গিরা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন দাবিতে তারা কারাগারের ভেতরে বিক্ষোভ করেন।

কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বন্দি জঙ্গিরা নিজেদের চাহিদামতো কম্বল সরবরাহ, স্বজনদের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে এক দিন সাক্ষাৎ ও ফোনে কথা বলার দাবি জানায়। পাশাপাশি তারা কারাগারের ভেতরে সাধারণ বন্দিদের মতো ঘোরাফেরা করার দাবি করে। কিন্তু কারা কর্র্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, ‘কয়েকজন জঙ্গি কারাগারের ভেতর তাদের ইচ্ছেমতো চলতে এবং বিভিন্ন বেআইনি দাবি জানায়। কয়েকজন জঙ্গি সদস্যের দাবি, তাদের বাইরে থেকে কম্বল সরবরাহ, প্রতি সপ্তাহে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফোনে কথা বলা এবং কারাগার ভবনের ভেতরে তাদের আটকে না রেখে বাইরে ঘোরাফেরা করতে দিতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের সব সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু কারা বিধির বাইরে কোনো কিছু করার নিয়ম বা সুযোগ নেই।’

এই কারা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বন্দিরা অল্প কিছু সময় ওই দাবি জানিয়ে শান্ত হয়ে যায়। বিষয়টি তেমন বড় কোনো ইস্যু হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ গত বছরের ২০ নভেম্বর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই সদস্যকে ঢাকার সিএমএম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় সংগঠনটির অপর সদস্যরা। যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছিনিয়ে নেওয়ার আগে ওই জঙ্গিরা কারাগারে বসেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাইরে থাকা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগাযোগ রাখছিলেন। তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে কারাগার থেকে জঙ্গিদের আদালতে হাজিরার সময় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়। এছাড়া কারাগারে তারা যেন মোবাইল ফোন ব্যবহার না করতে পারে সে জন্য নজরদারি এবং কারাগারের ভেতরে তাদের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।