কুষ্টিয়ায় শিশু হত্যায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় খাবারের সঙ্গে বিষ প্রয়োগে শাহিন (৫) নামের শিশু হত্যার দায়ে সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা দেওয়া হয়।

রোববার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদলত-১ এর বিচারক তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত নাছিমা খাতুন (৩৬) কুমারখালী উপজেলার চরভবানীপুর গ্রামের উস্তার মৃধার কন্যা এবং খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বাদশার স্ত্রী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মা’হারা শিশু শাহিন নানা বাড়ি থেকে খোকসা উপজেলার আমাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক বাদশার বাড়িতে আসেন ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা কাপড় কেনার জন্য। এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে বাবা বাদশার অনুপস্থিতিতে সৎ মা নাছিমা শিশু শাহিনকে ভাতের সঙ্গে কীটনাশক ফুরাডান নামের বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অসুস্থ শাহিনকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিশু শাহিন (৫) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা বাদশা বাদি হয়ে নাছিমা খাতুনের নামোল্লেখ করে খোকসা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা খোকসা থানার উপ পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান নাছিমা খাতুনের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করেন আদালতে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, শিশুকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার দায়ে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।