হজরত আদম আলাইহিস সালাম মানবজাতির আদি পিতা। তার জীবন থেকে পৃথিবীর মানুষের জীবনের সৃষ্টি হয়েছে। তার সন্তানরা ছড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বময়। তারা নির্মাণ করেছেন বসবাস উপযোগী সুন্দর পৃথিবী। গড়ে তুলেছেন শহর-নগর, গ্রামগঞ্জ। আবিষ্কার করেছেন সময়োপযোগী উন্নত কলাকৌশল। নির্মাণ ও আবিষ্কারের প্রথম জনক ছিলেন আমাদের পিতা আদম (আ.)। তার চেতনার প্রজ¦ালিত আলোয় পরবর্তী মানুষরা আলোকিত হয়েছে।
হজরত আদম (আ.) যখন পৃথিবীতে আগমন করেন, তখন পৃথিবীর সুন্দর পরিবেশ ছিল না। বসতি ছিল না। জনপদ ছিল না। গ্রাম কিংবা শহরের স্মৃতিচিহ্ন ছিল না কোথাও। পাহাড়-বন-জঙ্গলে ভরপুর ছিল পৃথিবীর মাটি। মানুষ পাহাড় ও বৃক্ষ কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতেন। বসবাস উপযোগী আবাসন বানাতেন। কিন্তু সেগুলো বর্তমান শহর-নগরের মতো সুন্দর ও গোছানো ছিল না।
হজরত আদম (আ.)-এর নাতি মাহলাইল ইবনে কায়নান পৃথিবীর বুকে প্রথম শহর স্থাপন করেন। তিনি এখানে অনেক ভালো কাজের সূচনা করেছিলেন। গাছ কেটে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন। ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন খনিজ পদার্থের খনি উত্তোলন করেন। ইবাদতগৃহ নির্মাণ করেন। শহর রক্ষায় বড় বড় দুর্গ নির্মাণ করেন। সাজানো-গোছানো পরিবেশবান্ধব দুটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম মানুষ, যিনি মানুষের চিরশত্রু ইবলিশ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের শহর থেকে বিতাড়িত করে জঙ্গল আর পাহাড়ে নির্বাসন দেন।
মাহলাইল ইবনে কায়নান পৃথিবীর সাত মহাদেশ শাসন করেন। তিনি প্রথম লোহার ব্যবহার করেন এবং লোহা দিয়ে হাতিয়ার বানানোর সূচনা করেন। তার আগে পৃথিবীতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ছিল না। তিনি সে সময় বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। মানুষকে কৃষিকাজে উৎসাহ দেন। জীবজন্তুর পশম দিয়ে কাপড় ও বিছানা তৈরি করেন।
তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন করেন। ইতিহাসে তার নাম বিশাদ্দাদ পাওয়া যায়। বিশাদ্দাদ ফারসি শব্দ। অর্থ যিনি প্রথম ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী। তিনি ৪০ বছর শাসনকার্য পরিচালনা করেন। আল কামিল ফিত তারিখু মুসান্নেফ, আল ইমাম ইবনুল আসির : ৫৩-৫৪
মাহলাইল দুটি শহর প্রতিষ্ঠা করেনবাবিল ও সোস। বাবিল বর্তমানে ইরাকে অবস্থিত। পরবর্তী সময়ে সে জায়গায় কুফা নামক শহর প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সোস শহরটি ইরানের খুজেস্তানে অবস্থিত।
বিজ্ঞানের ধারণা মতে, সোস নামক প্রাচীন নগরটি এলাম সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত। খ্রিস্টপূর্ব সাত হাজার থেকে এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস; এমন প্রমাণ মিলেছে। সোস নগরীর ইতিহাস তিনটি যুগে বিভক্ত। ১. যখন প্রাচীনতম অধিবাসীরা বসবাস করত। ২. উরুক সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত। ৩. যখন এই শহর এলাম সভ্যতার কেন্দ্র ছিল।
প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণায় জানা যাচ্ছে, নিউলিথিক যুগ তথা ৮৮০০-৭০০০ খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকে বিবলসে মানুষের বসবাস শুরু হয়। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে প্রথম বসতি গড়ে উঠেছিল এ শহরে। পুরাণ অনুযায়ী, ফোয়েনিসিয়ার প্রথম শহর হিসেবে ক্রোনাস তৈরি করেছিলেন এই বিবলস শহর। প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতায় এই বিবলস নগরী মুখ্য বাণিজ্য কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত হয়। সিডার ও অন্য মূল্যবান কাঠ রপ্তানি করত এই বাণিজ্য শহরের ব্যবসায়ীরা। ফোয়েনিসিয়ান বর্ণমালার প্রচলন এই শহরেই শুরু হয়। মাহলাইলের হাত ধরেই পৃথিবীতে শহর স্থাপনের সূচনা শুরু হয়। তাকে ইতিহাসে নগরপিতাও বলা হয়।