ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে আড়াইহাজারের সবজি

দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সবজি। গত ডিসেম্বরে কয়েক দফায় শুধু মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কয়েক কোটি টাকার বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, লাউসহ বিভিন্ন সবজি রপ্তানি হয়েছে। জানুয়ারিসহ আগামী তিন মাসে এ উপজেলা থেকে আরও সাত কোটি টাকার সবজি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতে পারে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় কৃষি বিভাগের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আড়াইহাজারে চলতি বছর ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে বিষমুক্ত বাঁধাকপি, ফুলকপি, রজবপাতা, লাউপাতা, লাউশাক, বরবটি, কাঁকরোল, উচ্ছে, ঝিঙে, লালশাক, ডাঁটা, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টমেটো, পটোল, চালকুমড়া, লাউ, কাঁচাপেঁপে, কাঁচাকলা, শসা, শিম, লাউ, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, মুলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষ হয়। এসব সবজি আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, দুবাই, ইতালিসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের প্রায় ৩৫টি দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে।

এ ছাড়া আড়াইহাজারের উৎপাদিত সবজি প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলায়।

জানা যায়, আড়াইহাজার উপজেলা ও গোপালদী পৌরসভার ব্রাহ্মনদী, সাতগ্রাম, দুপ্তারা, হাইজাদী, ফতেপুর, উচিৎপুরা, খাগকান্দা, বিশনন্দী, মাহমুদপুর ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ কৃষক রপ্তানির উপযোগী বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। এবছর বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার লাভ করেন আড়াইহাজারের কৃষক শফিকুল ইসলাম।

উপজেলার সরাবদী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ২০ বিঘা জমিতে লাউ, বেগুন, টমেটো, শিমের আবাদ করেছি। ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে সবজি কিনে নিয়ে বিদেশে রপ্তানি করেন। তাই নগদে ও বেশি দামে বিক্রি করে চাহিদামতো মুনাফা হয়।’ ২৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন নগর জোয়ার গ্রামের শাহ আলম। তিনি বলেন, ‘আগে অনেক সময় লোকসানে সবজি বিক্রি করতে হতো। এখন বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় সবজি বিক্রিতে আর কোনো সমস্যা হয় না।’

পাইকার কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা জমি থেকে সবজি সংগ্রহ করে ঢাকায় যাত্রাবাড়ী ও কাওরানবাজারে আড়তদারদের কাছে নিয়ে যাই। সেখান থেকে প্রসেসিং করে রপ্তানিকারকরা বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ফারুকী বলেন, ‘উপজেলার প্রায় ৩০০ কৃষক রপ্তানির উপযোগী বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ করছেন। কৃষি অফিস থেকে বিষমুক্ত সবজি চাষে সেক্স ফেরোমন, হলুদ আটা টেপ ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতিসহ নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদ্ধতি।’ নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল মাজেদ বলেন, ‘আড়াইহাজারের লাউ, ঢেঁড়শ, বেগুন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে। ইংল্যান্ডে একটি বাংলা মার্কেট রয়েছে। সেখানে প্রচুর চাহিদা দেশের সবজির।’