ইভিএম প্রকল্প পাস না হলে ব্যালটে ভোট

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে একনেকে নতুন প্রকল্প পাস না হলে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ইভিএম প্রসঙ্গ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। বৈঠকে বুয়েট শিক্ষক প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. হায়দার আলী, তথ্য বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলামসহ প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন।

ইভিএম প্রকল্প খুব একটা এগোয়নি উল্লেখ করে ইসি রাশেদা সুলতানা বলেছেন, প্রকল্পের অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করব বলে আমরা বলেছিলাম। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পাস না হলে আমাদের কাছে বর্তমানে যা আছে, তাই দিয়েই ভোট করব। মধ্য জানুয়ারির মধ্যে নতুন প্রকল্প পাস না হলে ব্যালটে যেতে হবে। সেই প্রস্তুতিও নিতে হবে। টাইমলি হলে তো ভালো। না হলে যা আছে তা নিয়েই করব।

এ কমিশনার বলেন, এসব নীতিনির্ধারকদের (মন্ত্রণালয়/সরকার) সঙ্গে কথা হয়নি। এটার রীতিও নেই। ইসি সচিবালয় হয়তো কথা বলবে। আমাদের সক্ষমতা যা আছে, তাই করব। আমাদের সক্ষমতা তো জানামতে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করার মতো আছে। এখন কী আছে জানি না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আরপিও বিল আকারে রেডি করছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আমাদের কাছে পাঠাবে বলে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি ও সরবরাহের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

বুয়েট অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেছেন, ইসির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই যাক না কেন, তাদের তো এ অভিজ্ঞতা নেই। কাজেই এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত এবং ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়া উচিত।

শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ডেটাবেজ যেখানেই থাকুক সব একেবারে আইডেন্টিক্যাল হতে হবে। এটায় দ্বিমত নেই। যদি আইডেন্টিক্যাল না থাকে এটা হাস্যকর হয়ে যাবে। এটা তো শিউর। এখন এটা কমিশনে আছে না অন্য কোথাও আছে, এটা তো মেটার করে না। কাজেই ভোটার তালিকার যে ডেটা নেওয়া হয় সেটা থেকেই এনআইডি হয়। বেসিক্যালি এখন ইভিএম হবে কি হবে না সেটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে যে এই ডেটাগুলো অন্য কোথাও থাকলে ইভিএম ব্যবহারে কোনো ঝামেলা হবে কি না। টেকনিক্যাল পয়েন্ট থেকে তো ঝামেলা হওয়ার কথা নয়। কারণ একই জিনিস। এখানে থাকুক আর অন্য কোথাও থাকুক।

তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে আমরা সবাই সেটা স্বীকার করে নিচ্ছি, অত্যন্ত সুন্দর একটা ডেটাবেজ আছে। ১৮ বছরের নিচে যারা আছে তাদের তথ্য নিতে চাচ্ছি। এখন কমিশন না অন্য কেউ নেবে এটা নিয়ে আলোচনা করেছি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের মালিকানা রাষ্ট্রের বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. হায়দার আলী। তিনি বলেন, মালিকানা হচ্ছে রাষ্ট্র। সরকারই টাকা দিয়ে এটা (এনআইডি) তৈরি করেছে। টেকনিক্যাল পয়েন্ট থেকে ইতিবাচক, নেতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত কমিশন বা সরকার নেবে। তারা আরও জানবেন বিষয়টা। তারপর আলোচনা করে বিষয়টা সিদ্ধান্ত নেবেন।