মেট্রোরেল ব্যবহারে সচেতনতা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যত্ন নিয়ে মেট্রোরেল ব্যবহার করার জন্য জনসচেতনতা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা যেন মেট্রোরেল ব্যবহারে সচেতন হতে প্রচারণা চালাই। সার্বিক যতœ নিয়ে যেন আমরা ব্যবহার করি, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনের পরদিন ২৯ ডিসেম্বর বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে মেট্রোরেল। সীমিত পরিসরে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করছে মেট্রোরেল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ মেট্রোরেলে চড়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে।

গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নয়, বরং ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ, পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয়ে সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২২’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সংসদ না থাকায় অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় এখন সংসদে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। গত ১ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২২’ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ অধ্যাদেশ বলে বিইআরসির পাশাপাশি সরকার চাইলেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

স্বাভাবিকভাবে দাম সমন্বয়ের কাজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনই করবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার এক্ষেত্রে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

দেশে প্রচলিত যে বাজারব্যবস্থা রয়েছে সেটাকে আধুনিকীকরণ এবং উৎপাদনকারীকে সুবিধা দিতে ‘জাতীয় কৃষি বিপণন নীতি- ২০২২’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই নীতিমালায় চেষ্টা করা হয়েছে কৃষির উৎপাদন ও প্রচলিত বাজারব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা। এ জন্য কিছু কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। কীভাবে কৃষির বিপণনকে বাজারমুখী করা এবং উৎপাদনকারীকে বেশি সুবিধা দেওয়া যায়, এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, কৃষি বিপণন নীতিমালা আছে তবে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো নীতিমালা নেই।

প্রক্রিয়াজাতকরণ যেন আধুনিক হয়, আন্তর্জাতিক মানের হয় সে জন্য একটি নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।