এক টাকার ডাক্তার!

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে চিকিৎসার ব্যয় মেটানো দেশের বেশির ভাগ মানুষের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে; বিশেষ করে চিকিৎসকদের উচ্চ ফির কারণে মানুষই চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে না; বরং দোকান থেকে নিজেদের মতো ওষুধ কিনে খাচ্ছে। এতে করে রোগ মুক্তির বদলে উল্টো দেখা দিচ্ছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রাজশাহীর অবস্থাও একই। তবে সম্প্রতি সেখানে আশার আলো জে¦লেছেন সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেল নামের এক তরুণ চিকিৎসক। শহরের সাহেববাজারে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন সদ্য এমবিবিএস পাস করা সুমাইয়া।

স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার থেকে সুমাইয়া চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন। খবর পেয়েই রোগীদের ভিড় শুরু হয়েছে চিকিৎসক সুমাইয়া বিনতে মোজাম্মেলের চেম্বারে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে অনেকেই আসেন চিকিৎসা নিতে।

সুমাইয়ার চেম্বার রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার সংলগ্ন মনি চত্বরে। নিজেদের বাড়ির নিচতলায় রয়েছে সুমাইয়াদের পারিবারিক মিষ্টির দোকান। তার পাশেই একটি ছোট ওষুধের দোকান তাদেরই। সেখানেই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সুমাইয়া। সুমাইয়া বলেন, ‘বাবা মোজাম্মেল হক পেশায় শিক্ষক। তিনি বিভিন্নভাবে সমাজসেবার কাজ করেন। সেই থেকেই মানবিকতার শিক্ষা পাওয়া। বাবার ইচ্ছা ছিল আমি চিকিৎসক হয়ে যাতে মানুষের সেবা করি।’

গতকাল সকালে চেম্বারের সামনে গিয়ে দেখা গেল, লাইনে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন। ছোট ওষুধের দোকানে বসেই রোগী দেখছেন সুমাইয়া। টেবিলের ওপর এক পাশে রাখা আছে ছোট একটি মাটির ব্যাংক। সেই ব্যাংকেই চিকিৎসা শেষে রোগীরা ১ টাকা ফি দিয়ে যাচ্ছেন।

ফ্রি না দিয়ে এক টাকা কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এক টাকা তো কোনো টাকা না। তবুও এই টাকা নেওয়ার পেছনেও একটা উদ্দেশ্য আছে সেটি হলো, এই টাকাগুলোও চলে যাবে মানুষের সেবায়। আমাদের একটি চ্যারিটি ফান্ড আছে, সেখানে এই টাকাগুলো যাবে। সেখান থেকে মানুষের সেবা করা হবে।’ 

রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা সুমাইয়া রাজশাহী মেডিপ্যাথ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতলের ডিউটি ডাক্তার হিসেবে কর্মরত আছেন।

তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রশংসা করছেন এই উদ্যোগের। তাদেরই একজন জয়নাল আবেদিন। তিনি বললেন, ‘এখনকার সময়ে ডাক্তার ম্যাডামের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। দ্রব্যমূল্যের অজুহাতে চিকিৎসকরা যখন নিজেদের ভিজিট দিন দিন বাড়াচ্ছেন, সেখানে এক টাকার বিনিময়ে রোগী দেখা বড় উদারতা।  ভালো, একটি মানবিক কাজ।’

রেবেকা সুলতানা এসেছিলেন গাইনি-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে পরামর্শ নিতে। চিকিৎসা শেষে তিনি বলেন, ‘অনেক সময় বেশি টাকা দিয়েও ডাক্তারের কাছে সেবা পাওয়া যায় না। কিন্তু তিনি ১ টাকা দিয়ে অনেক সময় নিয়ে বেশ ভালোভাবেই দেখেছেন।’

কলেজছাত্র মাহবুব মুরশেদ বলেন, গতকাল ডাক্তারের কথা শুনে এখানে এসেছি। এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তা ছাড়া অমি স্টুডেন্ট মানুষ, যেখানে কম টাকা হবে, সেখানেই আমার জন্য ভালো।’