এক গাড়ি থেকে আরেক গাড়ি এভাবেই জীবন চলছে ষাটোর্ধ্ব মো. সামিউল হকের। তিনি জামালপুরের বাসিন্দা হলেও থাকেন গাজীপুরে। চোখে কম দেখা সামিউল বাঁশির সুরে গণপরিবহনে চলাচলকারীদের মোহিত করেন।
জীবন কেমন চলছে?
আর জীবন...সাপও মরে না, লাঠিও ভাঙে না, এই হলো অবস্থা।
ঢাকায় কোথায় থাকেন?
আমি ঢাকায় থাকি না। গাজীপুর থেকে প্রতিদিন সকালে গাড়ি করে ঢাকায় আসি।
এভাবে চলতে আপনার কষ্ট হয় না?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে, চাচা আমরা গরিব মানুষ কষ্ট হলে চলবে। না হলে খামু কি।
আপনার ছেলে সন্তান নাই?
দুই ছেলে, দুই মেয়ে ছিল। দুইজন মারা গেছে। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি, সে গ্রামে থাকে। মেয়েকেও বিয়ে দিয়ে দিছি।
চাচি আপনার সঙ্গে থাকে?
না, আপনার চাচি গ্রামে থাকে ছেলের সঙ্গে।
বাঁশি বাজিয়ে দিনে কত পান?
কোনো গাড়িতে টাকা পাই, আবার কোনো গাড়িতে একেবারেই দেয় না। তারপরও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হয়।
এই টাকায় সংসার চলে?
চলে না বাবা! চালতে হয়। তবে মাঝে মাঝে খেপে যাই বাঁশি বাজাতে। তখন কিছু টাকা পাই।
আরও কিছু করেন?
না।
বাড়িতে টাকা পাঠান?
প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে পাঠায়। আর যে ৪-৫ হাজার টাকা থাকে তা দিয়ে আমি চলি।
৪-৫ হাজার টাকায় আপনার চলে?
না চললেও চালিয়ে নিতে হয় বাবা।
তিন বেলা খেতে পারেন?
তিন বেলাই খেতে পারি। তবে কষ্ট হয়।
কত টাকা হলে আপনি ভালোভাবে চলতে পারতেন?
টাকার অভাব কি আর শেষ আছে বাবা। তবে, হ্যাঁ তিন বেলাই যেন পেট ভরে খেতে পারি সে পরিমাণ টাকা হলেই চলবে।
আপনাকে সুযোগ দেওয়া হলে কোন স্বপ্নটি পূরণ করবেন?
রেডিও, টিভিতে বাঁশি বাজানোর খুব ইচ্ছা, সুযোগও হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। কিন্তু কোন এক কারণে তা আর হয়নি।
আপনি মন্ত্রী হলে কোন কাজটি করতেন?
আমি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। আমার কি মন্ত্রী হওয়ার সাধ্য আছে। তবে, সুযোগ পেলে দেশের ভালো করার চেষ্টা করতাম।
প্রশ্ন পর্ব শেষে তিনি আপন মনে, বাঁশিতে সুর তুললেন- ‘আমার মত এত সুখী নয়তো কারো জীবন, কি আদর স্নেহ ভালবাসায় ঝরালো মায়ার বাঁধন।’