নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
উভয় পক্ষের লোকজন সাধারণ মানুষের বাড়িঘর-দোকানপাটে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) রাত থেকে বুধবার ভোর ৪টার পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, তারাব এলাকার যুবলীগ নেতা আকবর বাদশার সঙ্গে অপর যুবলীগ নেতা মনছুর আলীর এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন আগে আকবর বাদশা গ্রুপ ও মনছুর গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে গত এক সপ্তাহ আগে জমির বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ থানায় মীমাংসার জন্য বসলেও কোনো লাভ হয়নি।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারাব বাজারে আকবর বাদশার ভাই সুমন মোবাইল ফোনে মনছুর আলীকে উদ্দেশ করে গালিগালাজ করছিলেন। এ সময় মনছুর গালিগালাজ শুনে তাকে গালিগালাজের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় সুমন জানায় সে মনছুরকে কিছুই বলছে না। একপর্যায়ে দুজনের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তারা দুজনেই বাড়ি চলে যান। রাত ১০টার দিকে মনছুর ও বকুল, শাহীনসহ চনপাড়া বস্তি থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকবর বাদশার বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর চালায়।
অপরদিকে, আকবর বাদশা ডেমরা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মনছুরের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর চালায়। একপক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে করেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
পরে রাত থেকে দুই গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাতভর এলাকায় এক প্রকার তাণ্ডব চালায়। এ সময় তারা নুরু মিয়া, সূজন মিয়া, সারোয়ার, আলী হোসেন, পারভীন, রেজীয়া বেগম, তোতা মিয়াসহ সাধারণ মানুষের শতাধিক দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ভাঙচুর লুটপাট বুধবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে।
উভয় পক্ষের আকবর বাদশা, হেনা, জমিলা, আছিফ, আশিক, সেলিনা, শাওন, সাখাওয়াতসহ গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, আমরা এই দুই গ্রুপের কারণে এলাকায় শান্তিমতো থাকতে পারি না। তারা কয়েক দিন পরপরই মারামারি করে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকেন।
এ ব্যাপারে আকবর বাদশার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মনছুর, বকুল ও শাহীনসহ তাদের সন্ত্রাসীরা আমার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। আমিসহ আমার লোকজন আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছি।
মনছুরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আকবর বাদশা ও তার লোকজন আমার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আমার স্ত্রীসহ আমার পরিবারের লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করেন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া এসব তাণ্ডবের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।