যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথি উদ্ধারের পর ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। এ নিয়ে চলছে ফেডারেল তদন্ত। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেও রাষ্ট্রীয় নথি নিয়ে পড়তে হলো বেকায়দায়। বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কিছু গোপনীয় নথি পাওয়া গেছে তার ব্যক্তিগত অফিসে। দুই দফায় উদ্ধার হয়েছে এসব নথি। প্রথম দফায় নথি উদ্ধারের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ভাষ্য, এই ঘটনা হোয়াইট হাউজকে রাজনৈতিক লজ্জায় ফেলেছে। এই ঘটনা ও প্রাপ্ত নথিগুলো খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয়। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন গোপনীয় নথি সুরক্ষিত রাখার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি সে সময় বাইডেনের কার্যালয় থেকে পুরনো নথি পাওয়ার এ ঘটনা ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট পার্টির কর্মী-সমর্থকদের অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। হোয়াইট হাউজের কাছে অবস্থিত থিঙ্কট্যাঙ্ক পেন বাইডেন সেন্টার থেকে নভেম্বরে ১০টির মতো গোপন নথি পাওয়া গেলেও ওই উদ্ধারের ঘটনা চলতি সপ্তাহে জানাজানি হয়। ওই নথিগুলোতে ইউক্রেন, ইরান ও যুক্তরাজ্য সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ও ব্রিফিং ছিল বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউজ এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় পাওয়া গোপন নথির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত বুধবার বাইডেনের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জঁ-পিয়ের তার প্রতিদিনের ব্রিফিংয়ে প্রথম দফায় পাওয়া গোপন নথি বিষয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এটা এখন বিচার মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় আছে। গতকাল প্রেসিডেন্ট এ প্রসঙ্গে যা বলেছেন, আমি তার চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।’ আগের দিন মঙ্গলবার বাইডেন তার এক সময়ের ব্যবহৃত কার্যালয় থেকে সরকারি গোপন নথি পাওয়ার ঘটনায় ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘বিচার মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় তিনি ‘সহযোগিতা’ করছেন।
এমন এক সময়ে হোয়াইট হাউজ এ বিতর্কে জড়াল যখন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের দখল রিপাবলিকানদের হাতে। প্রেসিডেন্ট এখন আর আগের মতো চাপমুক্ত থাকতে পারছেন না। ইতিমধ্যে বাইডেনের পদক্ষেপ ও তার পরিবারের তৎপরতা নিয়ে তদারকি শুরু করেছে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটি। এর চেয়ারম্যান জেমস কমার জানিয়েছেন, নভেম্বরে প্রাপ্ত গোপন নথি এবং এ সংক্রান্ত তারবার্তা তাদের কাছে জমা দিতে হোয়াইট হাউজকে অনুরোধ করেছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড শিকাগোর অ্যাটর্নিকে প্রাপ্ত নথিগুলো পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাইডেন ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউজ থেকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত পেন বাইডেন সেন্টার অপ্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করতেন। অথচ নিজের অফিস থেকে নথি বেরিয়ে আসার আগে, বাইডেন ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করেছিলেন যখন এফবিআই গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের ফ্লোরিডার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ সেট অতি গোপন নথি জব্দ করে। এবার ট্রাম্পও তাই বাইডেনকে বেকায়দায় পেয়ে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘কবে এফবিআই জো বাইডেনের সব বাড়িতে, এমনকি হোয়াইট হাউজেও অভিযান চালাবে?’