টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের সোর্স নুরু মিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদকের কারবার ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরীহ এলাকাবাসী তার অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী নুরু এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সাংসদ খান আহমেদ শুভ এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পাইখার ভাওড়া গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে নুরু মিয়া দীর্ঘ দিন যাবৎ মির্জাপুর থানা-পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এলাকায় মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির জন্য পাইখার ভাওড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আরিফ মিয়া ও তার ছোট ভাই আবদুল বাছেদ মিয়াসহ কয়েকজনকে নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, ২০১৯ সালে ইয়াবা ও গাঁজাসহ নুরু মিয়া গ্রেপ্তার হন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় মামলা হয়। যার নম্বর-১৪। এ ছাড়াও তিনি পুলিশের ভয় দেখিয়ে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করে থাকেন। তবে, মাদক বিক্রি করাই তার মূল কাজ।
স্থানীয়রা বলেন, ছয় থেকে সাত মাস আগে চানপুর গ্রামে তাস খেলার ‘অপরাধে’ পুলিশের ভয় দেখিয়ে চারজনের কাছ থেকে আদায় করেন ৪৮ হাজার টাকা। এ অভিযোগে মির্জাপুর থানার ওই সময়ের এএসআই রেজাউল ও মনির সাময়িক বরখাস্ত হন। কিন্তু পুলিশের সোর্স নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এছাড়া নুরু মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচলরত স্কুল কলেজের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে গত ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর নুরু মিয়ার নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী গ্রামবাসীর ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তা ছাড়ও এলাকার সাধারণ মানুষের পকেটে মাদক দিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা তার অন্যতম ‘কাজ।’ এ জন্য ওই এলাকার চামুটিয়া বাজারটি সন্ধ্যার আগেই বন্ধ হয়ে যায় বলে এমপি ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে নুরু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি শুধুমাত্র পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন বলে দাবি করেন।
অপরদিকে, মির্জাপুর থানার এসআই রামকৃষ্ণ দাস বলেন, কয়েক দিন যাবৎ নুরু মিয়াকে নিয়ে কাজ করছি না।
মির্জাপুর থানার এসআই মোশারফ হোসেন জানান, এলাকাবাসী অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, অভিযোগের কপি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।