‘আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সহজ নয়’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখন কী বলেন জনগণ তা বুঝতে পারে না। তাই তার কথার জবাব দেওয়া প্রয়োজন মনে করি না। পতন যখন স্পষ্ট হয়, তখন মানুষ অসংলগ্ন কথা বলে। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
ফখরুল বলেন, পতনের ভয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা কিছুদিন আগে বলতেন, আমরা (বিএনপি) নাকি রাস্তায় দাঁড়াতে পারি না। আমাদের নাকি কোমরের জোর নেই। এখন তারা এত অস্থির হয়ে গেছেন যে, সবরকম শক্তি প্রয়োগ করে জনগণের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন করছেন আন্দোলনকে বন্ধ করার জন্য। এর অর্থ সরকার ভয় পেয়েছে। ভীত হয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করছে।
কর্মসূচিতে পরিবর্তন : সংসদ বাতিল, খালেদা জিয়া ও নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ ১০ দফা এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে গত বুধবার গণ-অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঘোষিত কর্মসূচি পরিবর্তন করেছে বিএনপি। জেলা পর্যায়ে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচির বদলে সারা দেশে মহানগর ও উপজেলায় সমাবেশ ও মিছিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বাধার অভিযোগ : বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে সরকার প্রশাসনকে দিয়ে বাধা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গণ-অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ফরিদপুর ও ময়মনসিংহে ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আহত করেছে। ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ত্রাস সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত না করে পুলিশ উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে এবং বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। আহত হয় শতাধিক নেতাকর্মী।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে আসার সময় ময়মনসিংহ মহানগরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। অবস্থান কর্মসূচির কাছে গোলপুকুরপাড় এলাকায় গফরগাঁও উপজেলার নেতাকর্মীদের বহনকারী বাসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গুলিবর্ষণ ও রড দিয়ে হামলা চালায়। গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির ১২ জন আহত হয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ১০ জানুয়ারি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রোকনুজ্জামান সরকার রোকনকে গোয়েন্দা পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম মোশাররফ হোসেনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। ধামরাইয়ের নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন পথে আটকে গ্রেপ্তার অভিযান চালায় পুলিশ। ২৬ জনকে আটক করা হয়। সাভারে ১০ জন ও দোহারে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নে নেতাকর্মীরা গণ-অবস্থানে যোগ দিতে আসার সময় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা হামলা করে ১০ জনকে আহত করে। মহিলা নেত্রীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপরও হামলা করে। ১০ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোক্তার হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঢাকার গণঅবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার সময় মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন প্রমুখ।