লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিং পারাপার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বন। এ বনের ভেতর দিয়ে চলে গেছে সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। তবে বনের ভেতরের রেলক্রসিংয়ে ব্যারিকেড না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন পর্যটকরা। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার লাউয়াছগায় পর্যটকের ভিড় থাকায় সবাইকেই রেলপথ পার হয়ে বনের ভেতর ঢুকতে হয়।

শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে লাউয়াছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় হতাহতের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া কিছু পর্যটক রেললাইনের ওপর দিয়ে দ্রুত হেঁটে ও দৌড়ে পার হচ্ছেন। বনের ভেতরে রেলক্রসিংয়ে ব্যারিকেড থাকলেও কোন গেটম্যানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গেটম্যানের রুমও তালাবদ্ধ।

লাউয়াছড়ায় আসা পর্যটক হাসান ও সাদিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাউয়াছড়ায় প্রতি বছরই আসা হয়। কিন্তু রেলক্রসিংয়ে কখনও ব্যারিকেড দেখিনি। এটা শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

আরেক পর্যটক নাজমিন আক্তার বলেন, ‘শিশুদের জন্য রেলক্রসিংটা খুবই ঝুঁকির। হঠাৎ ট্রেনও হুইসেল শুনলে কোনদিকে না তাকিয়েই শিশুরা দৌড় দেয়।’

পরিবেশবাদী সংগঠন কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ আজাদ মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাউয়াছড়ার ভেতরের রেলক্রসিংটি পর্যটকদের জন্য বাস্তবেই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। সব সময় এখানে গেটম্যান পাওয়া যায় না। ব্যারিকেড থাকলেও তা ট্রেন আসলে ফেলা হয় না। বিষয়টি নিয়ে রেল বিভাগের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিনই রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকে। কেউ কখনও অভিযোগ করেনি। তবে ছুটির দিনে যেন ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং তাদের বাড়তি সতর্কতা থাকে সেজন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’