মধুমতী কংশুরের মিলনে খুশির বন্যা ৩৫ গ্রামে

৫৫ বছর পর গোপালগঞ্জে মধুমতী নদীর সঙ্গে কংশুর খালের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে মধুমতী বিলবুট চ্যানেলে (কাটা মধুমতী নদী) ভাঙন দেখা দেওয়ায় এই খালের মুখটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া, দুর্গাপুর, কাজুলিয়া ও কাঠি ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রামের কৃষক চাষাবাদে ক্ষতির সম্মুখীন হন। এসব গ্রামের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন খালটি নদীর সঙ্গে সংযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরে ২০০ মিটার দীর্ঘ খালটি খনন করা হয় এবং গতকাল শুক্রবার দুপুরে সংযোগ স্থাপনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম। পরে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

করপাড়া ইউনিয়নের কৃষক ফুল মিয়া খান (৪৫) বলেন, পানির অভাবে আমাদের চাষাবাদ করতে কষ্ট হতো। অনেক জমি অনাবাদি থাকত। এখান নদীর সঙ্গে খালে সংযোগ হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হবে।

একই এলাকার কৃষক হাফিজুর মোল্লা (৫৫) বলেন, জমির পানি নদীতে নামার ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকার কৃষিজমিতে স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ খালটির সঙ্গে ১২টি খালের সংযোগ রয়েছে। নদীর সঙ্গে খালটির পুনঃসংযোগ স্থাপন হওয়ায় এসব ইউনিয়নে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। এখন আর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হবে না। তাই কৃষি উৎপাদনে খরচ কমবে।

একই এলাকার একরাম আলী খান (৬৫) বলেন, এখন থেকে খালপাড়ের বাসিন্দারা খালের পানি দিয়ে দৈনন্দিন কাজ সারতে পারবেন। চাষাবাদে ব্যবহার করতে পারবেন কংশুর খালসহ এ খালের সঙ্গে সংযুক্ত অন্যান্য খালের পানি। এতে মানুষ উপকৃত হবেন।

করপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নোয়াব আলী ফকির বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ খালটির বন্ধমুখ নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। দীর্ঘ বছর পর এলাকাবাসীর দাবি পূরণ হলো। এতে এলাকাবাসী খুবই খুশি। এলাকার কৃষকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

করপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, এ খালটির বন্ধমুখ নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হওয়ায় করপাড়া, দুর্গাপুর, কাজুলিয়া ও কাঠি ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। খালটির মুখ বন্ধ থাকায় এসব ইউনিয়নের অনেক জমিতে স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আর শুষ্ক মৌসুমে বোরো আবাদে সেচ দিতে পানির সংকটে পড়তে হতো এলাকার কৃষকদের। এখন আর পানির সংকট হবে না। এখন সব জমি চাষের আওতায় আসবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন, এ খালটির মুখ ৫৫ বছর বন্ধ ছিল। আজ (গতকাল) খালটি নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হলো। এতে খালটিতে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হবে। শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজে এ খালে পানি ব্যবহৃত হবে। আগে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। হাজার হাজার টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদিত হবে।

জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, নদীর সঙ্গে খালটির পুনঃসংযোগ স্থাপন হওয়ায় এলাকায় চাষাবাদের উন্নয়ন ঘটবে। অনাবাদি জমিতে আবাদ হবে। এতে বাড়তি ফসল উৎপাদিত হবে। দেশ খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হবে।