শ্রীপুরে ময়লা আর বর্জ্যের পানিতে নাকাল ৩০০ পরিবার

গজীপুরের শ্রীপুরে বেশ কয়েকটি কারখানার স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে একটি এলাকা ময়লা আর বর্জ্য পানিতে প্রায় ডুবছে।

তিন দিন ধরে এমন ভোগান্তি হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ তাদের খোঁজ না নেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।

বেশ কটি শিল্পকারখানা স্থানীয়ভাবে পানি প্রবাহের ড্রেন (কালভার্ট) বন্ধ করে দিয়েছে। এরই মধ্যে ময়লা আর বর্জ্য মিশ্রণ পানিতে নাকাল প্রায় তিনশ পরিবারের অন্তত দেড় সহস্রাধিক মানুষ।

ময়লা পানি কারও কারও উঠান গড়িয়ে ঘরে ঢুকে পড়ছে। বিভিন্ন কারখানায় কাজ করা শ্রমিকেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

পৌরশহরের গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার লিচু বাগান গ্রামে গেলে এমন ময়লা আর পচা পানির দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়ে।

তবে এ দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে একাধিক কারখানায় যোগাযোগ করা হলে কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

এলাকাবাসী জানায়, গত বুধবার হঠাৎ এলাকায় ময়লা পানি বাড়তে থাকে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পানি আশপাশের বাড়ি উঠানে উঠতে শুরু করে।

গত দুদিন লিচু বাগান, গিলারচালা, মার্কেটপাড়া, চেরাগআলী পাড়া, দোখলা এলাকাগুলোয় এমন ভোগান্তিতে মানুষ দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

তারা বলেন, পাশে বেশ কটি শিল্পকারখানা নিজেদের সুবিধার কথা চিন্তা করে স্থানীয় কয়টা কালভার্ট (ড্রেন) মাটি ও বালু ভরাট করে বন্ধ করে দিয়েছে।

তারা আরও জানিয়েছেন, এলাকায় জমা পানি ওইসব ড্রেন দিয়ে পাশের লবলং খালে পতিত হয়। বর্ষাকালে নিয়মিত পানি নেমে যায় খালে। এমন অবস্থা থাকলে আসছে বর্ষাকালে এলাকায় বসবাস করা যাবে না। জলাবদ্ধতায় পরিণত হবে পুরা অঞ্চল।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাস্টারবাড়ি এলাকার ইউর ফ্যাশন কারখানার মূল ফটকের সামনে বালুর বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে পানি প্রবেশ ঠেকিয়ে রেখেছে স্থানীয় প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। এতে সড়ক থেকে সংযুক্ত আরও ৪টি আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে আছে। সড়কের আশপাশের শতাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ময়লা পানিতে ডুবে। ওই এলাকার পিলোসিট টেক্সটটাইল মিল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইউর ফ্যাশন, ওয়ান টেক্সসহ সাতটি কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক জলাবদ্ধতা মাড়িয়ে সকাল-সন্ধ্যায় কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন আরও বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন।

তারা বলেন, দ্রুত এ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে এলাকা।

স্থানীয় মানবাধিকার ও পরিবেশ কর্মী মো. খোরশেদ আলম বলেন, জলাবদ্ধতায় চারটি সড়কের বেশ কিছু জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ময়লা পানিতে মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

আবুল প্রধান প্রিক্যাডেট কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামীম আহম্মেদ জানান, পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষার্থীরা ময়লাজলে ভিজে স্কুলে আসছে।

স্থানীয় শ্রমিকরা জানিয়েছেন, আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তারা প্রতিদিন এই চারটি আঞ্চলিক সড়কের জলাবদ্ধতায় থাকা অংশ দিয়ে চলাচল করেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের আর বিকল্প কোনো পথ নেই। নিরুপায় হয়ে এ ময়লা জলেই ভিজে কারখানায় ডিউটিতে যেতে হচ্ছে। তারা দ্রুত এ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ চায় বলে জানিয়েছে।

ইকো কটন মিলের মানবসম্পদ কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারো না। আমাদের ঢাকা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।’

পাশের ইউর ফ্যাশন লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, আমরা কোনো পানি বা ড্রেন আটকে পানির প্রবাহ বন্ধ করিনি। পার্শ্ববর্তী ইকো কটন মিলস কালভার্টের মুখ বন্ধ করায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নিজেরাও এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।

শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রমিজ উদ্দীন জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে কালভার্ট বন্ধ করে পানি আটকে দেওয়াতে এমন খবর পেয়েছি। তবে স্থানীয় কোনো বাসিন্দা আমার কাছে আসেনি। আপনারা মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। যাদের সমস্যা তারা আমার কাছে না আসলে আমার কি করার আছে?

এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার সেনেটারি ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন বলেন, আমরা জানি না বিষয়টি। দ্রুত আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো। জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা এখনো অবগত নই। দেখে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এতে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।