গুলশানে গুলির নেপথ্যে

রোববার রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরে ডিএনসিসি মার্কেটের সামনে গোলাগুলির ঘটনায় এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে।

রবিবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম আমিনুল ইসলাম। তার বাম পায়ে গুলি লেগেছে। আর আটক ওহিদুল ইসলাম মিন্টু গুলি করেন। তিনি ব্যবসায়ী বলে জানায় পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে সেটির লাইসেন্স রয়েছে বলে জানা গেছে। দুজনকে আটক করা হয়েছে।

সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

সন্ধ্যায় গুলশান থানার সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি মো. আ. আহাদ বলেন, গুলির ঘটনার সূত্রপাত একটি বিকাশের দোকান থেকে। বিকেল ৪টার দিকে আরিফ নামে এক যুবক গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের হাবিবের বিকাশের দোকানে যান। সেখানে গিয়ে আরিফ বেশ কয়েকটি নম্বরে মোট ৭৫ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলেন। আরিফের কথা অনুযায়ী হাবিব নির্দিষ্ট নম্বরগুলোতে ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। বিকাশ করার পর আরিফ টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকেন।

তিনি বলেন, এরপর আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে হাবিব আরিফকে আটক করেন। আটক থাকা অবস্থায় আরিফ তার সহযোগীদের বিষয়টি জানান। এরপর আরিফের ফোন পেয়ে তার পাঁচ সহযোগী টিপু, হুমায়ুন, অহিদুল ইসলাম মিন্টু ও শরিফ ঘটনাস্থলে আসেন। তারা এসে বিভিন্নভাবে আরিফকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করে আরিফকে ছাড়তে চাননি হাবিব। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আরিফকে নিয়ে যেতে ওহিদুল ইসলাম মিন্টু ফাঁকা গুলি করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আমিনুল মিন্টু নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ওহিদুল ইসলাম মিন্টু আমাদের কাছে আটক রয়েছেন।

তবে ওয়াহিদ মিন্টুর সঙ্গে থাকা বন্ধু হুমায়ন কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থেকে এক স্বজন ফোন করে জানান তার ছেলেকে আটকে রেখে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। হুমায়ন কবীর তখন দাবিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা টাকা নিয়ে গুলশান যেতে বলেন। এ সময় হুমায়ন তার বন্ধু ওয়াহিদ মিন্টুসহ আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মহাখালী থেকে গুলশান যান। টাকা দাবিকারীরা তাদের গুলশানের ফার্নিচার মার্কেটের সামনের ওই বিকাশের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে বিকাশের দোকানির সঙ্গে কথাকাটাকাটি হলে তাদের ওপর হামলা করে দোকানিরা। তখন জীবন বাঁচাতে ওয়াহিদ তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গুলি করে জীবন রক্ষা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ আমিনুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওয়াহিদ নামে এক ব্যক্তি গুলি করেন। এ সময় আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তার বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়।

তিনি আরো জানান, আটক ওয়াহিদ দাবি করেছেন তিনি ব্যবসায়ী, কিছু লোক তার ওপর চড়াও হয়। আত্মরক্ষার্থে তিনি গুলি করেন।