খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ভোটার তালিকা পূর্ণাঙ্গ করে এর ভিত্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, ভোটার বেড়েছে ৫৭ লাখের বেশি। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার ২৭৭ জন। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯০ লাখ।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাঙ্গীর আলম। আগামী ২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলে। আর ২০১৬ ও ২০১৯ সাল থেকে তিন বছর পর পর (১৫-১৭ বছর বয়সী ও ভোটারযোগ্যদের) বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
হালনাগাদের তথ্য তুলে ধরে সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খসড়া তালিকাটি চূড়ান্ত করে তা দিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়েছেন ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার ২৭৭ জন। ২০২২ সালে ভোটার ছিল ১১ কোটি ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ জন। মৃতদের বাদ ও নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করে এ বছরের খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তযোগ্য ভোটারের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ জন, যা মোট ভোটারের ৫ শতাংশ।
তিনি জানান, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নাম বা অন্য তথ্য সংশোধনের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি করে ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
হালনাগাদের পর খসড়া তালিকা অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন এমন ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৬১ হাজার ১৫৮। গত বছরের ২ মার্চ এ সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ১০। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯, নারী ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ২৭ এবং হিজড়া ৪৫৪ জন। এবার হালনাগাদে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার ২৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪০ লাখ ৭২ হাজার ৪৫৫, নারী ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৪৩৯ এবং হিজড়া ৩৮৩ জন। বাদ পড়েছে মৃত ২২ লাখ ৯ হাজার ১২৯ জন ভোটার।
খসড়া তালিকার ভোটারসহ মোট ভোটার এখন ১১ কোটি ৯০ লাখ ৬১ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার ১১২, নারী ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৭৭ হাজার ২০৯ এবং হিজড়া ৮৩৭ জন। ২০২৩ সালের শেষে বা ২০২৪ সালের শুরুতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে, এসব ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
গত বছর ২০ মে থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চার ধাপে ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ চলে। এ সময় বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে মৃতদের তথ্য সংগ্রহও করা হয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদে ১৫-১৭ বছর বয়সী এবং ভোটারযোগ্য বাদ পড়া নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ২০২৩ সালে নতুন যারা ভোটার তালিকাভুক্ত হচ্ছেন, তারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। বাকিরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হবেন।
২০০৭-২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে পাঁচবার।
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, খসড়া দেওয়া হলো। প্রতি বছর মার্চ মাসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এবারও তা-ই হবে। যদি কারও কোনো আপত্তি থাকে, তারা আপত্তি দেবেন। যদি ত্রুটি থাকে তাহলে সংশোধনের জন্য আবেদন করবেন। পরে কমিশন তালিকা চূড়ান্ত করে ভোটার দিবসে তা প্রকাশ করবে।
২ মার্চ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভিত্তি ধরা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একটা সময় থাকে। সেই সময়ের মধ্যে ভোটার হলে তারাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।