রাজধানীর গুলশানে বিকাশের দোকানে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ভ্যানচালক ও এক প্রাইভেট কার চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলশান থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাসহ পাঁচজনকে পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল রবিবার বিকেল ৪টার দিকে গুলশান-১-এর গ্লোরিয়া জিন্স কফি শপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ দেশ রূপান্তরকে গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন পথচারী প্রাইভেট কারচালক মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আলিম সিকদারের ছেলে। অন্য আহত ভ্যানচালক আবদুর রহিম মিয়া (৫০)। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ছনের আকনের ছেলে। আমিনুল বর্তমানে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ও রহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আটকরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আবদুল ওয়াহিদ মিন্টু (৪৬), ওমান প্রবাসী ও কুমিল্লার লাকসামের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন (২৪), আরিফের ভগ্নিপতি মনির আহমেদ (৩৫), বিকাশ দোকানি হাবিবুর রহমান আলিম (৩৫) ও দোকানির সহকারী খলিল খান (১৮)। বিকাশ দোকানি ও তার সহকারীর গ্রামের বাড়ি সিলেটে। তারা গুলশানের গুদারাঘাট এলাকায় থাকেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ১৬ রাউন্ড গুলি, ৩টি গুলির খোসা, ৪টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। পিস্তলটি লাইসেন্স করা এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ডিএনসিসি মার্কেটের গার্ড শরীফ জানান, বিকাশের দোকানে টাকা পাঠানো নিয়ে ঝামেলা হয়। এর জের ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একজনকে গুলি করতে করতে মার্কেটের ভেতর ঢুকতে দেখেন তিনি।
পুলিশ ও আটকদের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, ওমান প্রবাসী আরিফ হোসেন বিকাশ প্রতারণার শিকার হয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় গুলশান-১-এর আলফা জেনারেল স্টোর নামের দোকানে গিয়ে একটি নম্বরে পর্যায়ক্রমে ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। টাকা পাঠানোর পর আরিফ টাকা দিতে না পারলে দোকানদার হাবিবুর রহমান আলিম তাকে দোকানের সামনে আটকে রাখেন। পরে আরিফকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তার ভগ্নিপতি মনির হোসেন ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আবদুল ওয়াহিদ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দোকানদার ও তার লোকজন তাদেরও আটক করলে একপর্যায়ে নিজেকে আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছোড়েন মিন্টু। এতে রাস্তায় থাকা এক প্রাইভেট কারচালক ও এক ভ্যানচালক গুলিবিদ্ধ হন।
গুলশান থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে সামান্য জখম হয়েছে। যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়েছে সেটির লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান থানার সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি মো. আ. আহাদ বলেন, গুলির ঘটনার সূত্রাপাত একটি বিকাশের দোকান থেকে। বিকেল ৪টার দিকে আরিফ নামে এক যুবক গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটের হাবিবের বিকাশের দোকানে যান। সেখানে গিয়ে আরিফ বেশ কয়েকটি নম্বরে মোট ৭৫ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলেন। আরিফের কথা অনুযায়ী হাবিব নির্দিষ্ট নম্বরগুলোতে ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পর আরিফের কাছে ৭৫ হাজার টাকা হাবিব চাইলে টাকা না দিয়ে নানা টাল বাহানা করতে থাকেন। তিনি বলেন, আরিফ টাকা না দেওয়ায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে হাবিব তাকে আটক করেন। আটক থাকা অবস্থায় তিনি তার সহযোগীদের বিষয়টি জানান। এরপর আরিফের ফোন পেয়ে তার পাঁচ সহযোগী টিপু, হুমায়ুন, অহিদুল ইসলাম মিন্টু ও শরিফ ঘটনাস্থলে আসেন। তারা ঘটনাস্থলে আসার পর বিভিন্নভাবে আরিফকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করে আরিফকে ছাড়তে চাননি হাবিব। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আরিফকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওহিদুল ফাঁকা গুলি করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা পথচারী আমিনুল গুলিবিদ্ধ হন।
তবে ওয়াহিদ মিন্টুর সঙ্গে থাকা বন্ধু হুমায়ুন কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থেকে তার এক স্বজন ফোন করে জানান ওই স্বজনের ছেলেকে আটকে রেখে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করেছেন। তিনি টাকা দাবিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা টাকা নিয়ে গুলশানে যেতে বলেন। এ সময় তিনি তার বন্ধু ওয়াহিদ মিন্টুসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মহাখালী থেকে গুলশানে যান। এরপর গুলশানের ফার্নিচার মার্কেটের সামনের ওই বিকাশের দোকানে যান। সেখানে বিকাশের দোকানির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে তাদের ওপর হামলা করেন দোকানিরা। এ সময় ওয়াহিদ তার লাইসেন্স করা পিস্তল থেকে গুলি ছোড়েন।