নেপালের পোখারা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৮ জন আরোহী ও চার ক্রু নিয়ে ইয়েতি এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির কোনো যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় পাননি উদ্ধারকারীরা। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিহত দুই পাইলটের মধ্যে একজন অঞ্জু খাতিওয়াদা। ১৬ বছর আগে তার স্বামী কো পাইলট দীপক পোখারেলও একইভাবে প্রাণ হারান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, অঞ্জু খাতিওয়াদা উড়োজাহাজটির কো চালক ছিলেন। ওই দিনের উড়ান সম্পূর্ণ করলেই তিনি পাইলট পদে পদোন্নতি পেতেন।
২০০৬ সালে তার স্বামী দীপক পোখারেলও ইয়েতি এয়ারলাইনসের বিমানের কো পাইলট ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তার অধরা স্বপ্নকেই নিজের লক্ষ্যে পরিণত করেন অঞ্জু। জীবনের দিশা বদলে ফেলেন। আমেরিকায় গিয়ে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। ফিরে এসে যোগ দেন ইয়েতি বিমান সংস্থায়। রোববার যাত্রা থামল স্বপ্ন উড়ানের সেই ভগ্নদূতের।
ইয়েতি এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী বিমান এটিআর-৭২ পোখরা বিমানবন্দরে নামার আগে সেতি গন্ডকি নদীর ধারের জঙ্গলে ভেঙে পড়ে। মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। যাকে বলা হচ্ছে নেপালের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয়।
উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ভারতীয়সহ ৫৩ জন নেপালি, একজন আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা, দু’জন কোরীয়, একজন আর্জেন্টিনীয় এবং একজন ফরাসি যাত্রী। সবক’টি দেহ উদ্ধার করা না গেলেও বিমানে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কীভাবে ঘটল এ দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে নেপাল সরকার। ৪৫ দিনের মধ্যে তারা এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করবেন।
উদ্ধারকারীরা উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষের কাছে একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া গেছে। তাতে উড়োজাহাজটি পড়ে যাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তের ভিডিও পাওয়া যায়।