রবিবার থেকে আড়াই কোটি শিশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হবে

দেশের ৪৪ জেলার ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে কৃমির ওষুধ খাওয়াবে সরকার। আগামী ২২ জানুয়ারি রবিবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সাত দিন এসব জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই ওষুধ পাবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভবনে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কৃমি সপ্তাহে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫-১১ বছর বয়সী সকল শিশুকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২-১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ (মেবেন্ডাজল বা ডারমক্স ৫০০ মি.গ্রা.) ভরা পেটে সেবন করানো হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যে ৫-১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম উদযাপন করার লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল প্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ৫-১৬ বছর বয়সী সব (স্কুলগামী, স্কুলবহির্ভূত, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, পথশিশু, কর্মজীবী শিশু) শিশুকে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ বিনামূল্যে সেবন করানো। পাশাপাশি কৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধকল্পে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা হয়। এসব শিশুকে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা দেওয়ার ফলে তা অভ্যাসে পরিণত হবে এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারে সচেতন হবে। যা থেকে ভবিষ্যতে শিশুরা কৃমিসহ অন্যান্য পরজীবীবাহিত রোগব্যাধি থেকেও পরিত্রাণ পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৃমির সংক্রমণ বয়স্ক মানুষের চেয়ে শিশুদের মধেই সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ৫-১৪ বছর বয়সীদের ৩২ শতাংশ ও ১৫-২৪ বছর বয়সীদের ১৫ শতাংশ কৃমিতে সংক্রমিত হচ্ছে। এ ছাড়া  ০-৪ বছর বয়সী ও ২৫-৪৪ বছর বয়সীরা ৭ শতাংশ করে, ৪৫-৫৪ বছর বয়সীরা ৫ শতাংশ ও ৫৫ বছরের অধিক বয়সীরা ৪ শতাংশ করে কৃমিতে সংক্রমিত হন। এই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশুদের মধ্যে এই কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে ২০০৫ সালে প্রথম দেশের তিন জেলায় এই কর্মসূচি নেয় সরকার। পরে ২০০৭ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ জেলায়, ২০০৮ সালের মে পর্যন্ত ২৪ জেলায় ও ২০০৮ সালের নভেম্বর থেকে ৬৪ জেলায় কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, সারা দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সরকারি, বেসরকারি, ফরমাল, নন-ফরমাল স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব) এবং প্রায় ৩৩ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের (বিদ্যালয়, মাদ্রাসা) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কৃমিনাশক কর্মসূচির আওতাভুক্ত। শিশুদের মধ্যে ওষুধ সেবনের হার প্রত্যেক রাউন্ডেই ৯৫-৯৮ শতাংশ রয়েছে। শিশুদের মল পরীক্ষায় কৃমির উপস্থিতি ৮০ শতাংশ (২০০৫ সাল) থেকে কমে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশের নেমে এসেছে। কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের এই হার অব্যাহত থাকলে এবং দেশের সকল শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাদের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে প্রতিটি ঘরে আমরা কৃমিমুক্ত শিশু দেখতে পাব, যা সুন্দর ও সুস্থ জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।