যশোরে হত্যার ৭ বছর

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল নিহত ও খুনির পরিচয়

হত্যার ছয় বছর পর উদ্ধার হয়েছিল কঙ্কাল। তার প্রায় এক বছর পর পাওয়া গেল পরিচয়। নিবিড় তদন্তে ধারাবাহিক অনুসন্ধান চালিয়ে যশোরের আলোচিত কঙ্কাল-রহস্যের সমাধান করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গতকাল বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, গত বছরের ৩০ মে যশোর শহরের পুরনো কসবা নিরিবিলি এলাকার একটি পরিত্যক্ত কাঁচা শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে পাওয়া প্লাস্টিকের ব্যারেলের মধ্যে উদ্ধার হয় একটি কঙ্কাল। কঙ্কালটি খুলনার রাজীব হোসেন কাজীর। তিনি খুলনার দিঘলিয়ার চন্দোলি মহল গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। ডিএনএ থেকে শনাক্ত করা হয়েছে কঙ্কালের পরিচয়। খুনের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল অভিযুক্ত সজিব অন্য একটি হত্যা মামলায় কারাগারে। আটক তিনজন হলেন সালাম, ইব্রাহিম ও জয়নাল।

রেশমা শারমিন জানান, কঙ্কাল উদ্ধার হওয়ার পর তারা ছায়া তদন্ত শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মূল খুনি সজিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পরে খুনের প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ৩০ মে যশোর শহরের পুরনো কসবা নিরিবিলি এলাকায় বজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা কাজ করার সময় সেখানে পরিত্যক্ত একটি শৌচাগারের ভেতর থেকে মাটিচাপা দিয়ে রাখা মুখ বন্ধ একটি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। ওই ড্রামের ভেতর মানুষের কঙ্কাল পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠান। কিন্তু এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ কোনো মামলা না করলেও তদন্তে নামে পিবিআই।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পিবিআই কর্মকর্তারা জানতে পারেন, পুরনো কসবা নিরিবিলি এলাকার শেখ আজিজুল হক বুকড়ার ছেলে শেখ সজিবুর রহমান ওরফে সজিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজীব ২০১৬ সাল থেকে নিখোঁজ। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজীবের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দোলি মহল এলাকায়। তার বাবার নাম ফারুক হোসেন। পরে রাজীবের বাবা-মাকে খবর দিয়ে এনে কঙ্কাল এবং তাদের ডিএনএ টেস্ট করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।