বাসা থেকে সাংবাদিক বিপ্লব জামানের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর ভাড়া বাসা থেকে বিপ্লব জামান (৬০) নামে এক গণমাধ্যমকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের নিউজ কনসালট্যান্ট ছিলেন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ‘এফ’ ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ১৬১ নম্বর পাঁচতলা ভবনের পাঁচতলার বাসার দরজা ভেঙে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পল্লবী থানা পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাত দিন ধরে বিপ্লব জামান অফিসে যাচ্ছিলেন না। অফিস থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলামকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। রফিকুল ইসলাম পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় দরজা ভেতর থেকে লক করা। তখন সিআইডির ফরেনসিক টিমকে জানানো হয়। বাড়িওয়ালার উপস্থিতিতে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, মালামাল অক্ষত আছে। তবে বিপ্লব জামান বারান্দায় পড়ে আছেন। পায়ে স্যান্ডেল ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলামও একসময় ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে কাজ করতেন। পূর্ব পরিচয় ও একই অফিসে কাজ করার সুবাদে দুই বছর ধরে বিপ্লব জামান ওই বাসায় ভাড়া থাকেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, বাচ্চারা ছোট থাকা অবস্থায়ই স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয় বিপ্লব জামানের। তার সন্তানদের একজন জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ও আরেকজন ওসমানী মেডিকেল কলেজে পড়েন। বিপ্লবের বয়স ৬০-এর কাছাকাছি। তিনি কথাবার্তা কম বলতেন। অফিস ও বাসায় যাতায়াত করতেন। খুব একটা রান্নাও করতেন না। হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করতেন। তিনি অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন, নাকি আত্মহত্যা করেছেন তা ময়নাতদন্তে জানা যাবে।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।