পুরাতন রেল স্টেশন বা জেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ করতে চায় চট্টগ্রাম বিএনপি

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম পুরাতন রেল স্টেশন কিংবা লালদীঘি পাড়ের জেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে নগর পুলিশের কাছে সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী সোমবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার কার্যালয়ে এ চিঠি পৌঁছে দেন।

তবে, এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতির ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।

মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মো. ইদ্রিস আলী দেশ রূপান্তরকে জানান, ২৫ জানুয়ারি পুরাতন রেল স্টেশন চত্বর কিংবা জেলা পরিষদ চত্বরে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত থাকবেন। সুশৃঙ্খলভাবে ও নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবে সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেব।

এদিকে পুলিশের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের মামলার আসামি হওয়ার কারণে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্করসহ মহানগরীর সিনিয়র নেতৃবৃন্দের ২৫ জানুয়ারির কর্মসূচিতে উপস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, তাদের কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে অগ্রিম জামিন নেয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় বিএনপি কর্মীদের হাতে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পর অনেকটা কঠোর অবস্থানে রয়েছে তারা। এ ঘটনায় জড়িতদের অনেককে ভিডিও ফুটেজ দেখে এবং গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। সেদিনের ঘটনায় দায়ের করা চার মামলার আসামিদের ব্যাপারে পুরোপুরি অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। নগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন সেই তালিকায়।