আবাদ বাড়লেও খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

দেশের তরমুজ উৎপাদনের সিংহভাগ আবাদ হয় দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনায়। খেতে সুস্বাধু ও মিষ্টি হওয়ায় সারাদেশেই রয়েছে বরগুনার তরমুজের চাহিদা। সারাদেশে বরগুনার তরমুজের চাহিদাকে মাথায় রেখে এবছর বরগুনায় ব্যাপক তরমুজ আবাদ হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কিত বরগুনার কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১১ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবছর কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এরমধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর ও আমতলী উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। প্রতিবছর জেলার আমতলী উপজেলায় বেশি তরমুজ আবাদ হলেও এবছর সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে বরগুনায়।

কিন্তু, আবাদ বেশি হলেও গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আদৌ লাভ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। বরগুনার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতবছর ১০০ গ্রাম তরমুজের বীজের দাম ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। এবছর সেই একই তরমুজের বীজের দাম প্রতি ১০০ গ্রামে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা। এবছর এক কৌটা (১০০ গ্রাম) বিগ ফ্যামিলি বীজ ৩ হাজার টাকা, জাগুয়া ৩ হাজার ২০০ টাকা ও এশিয়ান বীজ ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে জ¦ালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষে বেশি খরচ হওয়ায় এবার তরমুজের উৎপাদন খরচ বাড়বে। এতে করে আসলে কতটা লাভবান হবেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সবজায়গাতেই বীজতলা তৈরি হয়ে গেছে। এখন কর্মব্যস্ত সময় কাটছে বীজ বপণে। নারী-পুরুষ উভয়ে সমান তালে মাঠে বীজ বপণের কাজ করছেন। অনেকের ক্ষেতে বীজ বপণ শেষে বীজ লাগানো স্থানটিতে ওষুধ স্প্রে করছেন বিভিন্ন পোকামাকড়ের হাত থেকে বীজ রক্ষা করার জন্য। কিছু কিছু ক্ষেতে বীজ থেকে চারা ফুটছে।

বরগুনার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি  নাসির খান বলেন, গত বছরে ঘূর্ণিঝড় অশনির বৃষ্টিতে তরমুজ ক্ষেত ডুবে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছিল। তারপরও এ বছর ১৬ একর জমিতে তরমুজ  আবাদ করেছি। এ বছর সবকিছুর দাম আরও বেড়েছে, তাই গত বছরের মতো লোকসানে পড়তে হয় কি না আল্লায় জানেন।

উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের চাষি আল আমিন বলেন, এ বছর ৮০০ শতক জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। এতে তিন লাখ টাকা ব্যয়  হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরগুনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত কৃষকদের উৎপাদন নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। এবছর জেলায় ১১ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও প্রায় দ্বিগুণ তরমুজ আবাদ হবে।