সীতাকুণ্ড বাইপাস রোডে ‘লাইনের’ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় লাইনম্যানের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক একরাম হোসেনকে (২০)। লাইনম্যান নূর আহম্মদসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চার চালককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে এনে এসব তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল শনিবার পিবিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এসব তথ্য।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক জাহেদ হোসেন (২০), মোস্তাফিজুর রহমান সাকিব (২০) ও ইসমাইল হোসেন রানা (২৪)। এদের মধ্যে জাহেদ ও মোস্তাফিজের বাড়ি সীতাকুণ্ড পৌরসভায়। আর সাকিব ও ইসমাইলের বাড়ি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে। তারা চারজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি ‘দক্ষিণ বাইপাস সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি’র সঙ্গে যুক্ত।
পিবিআই জানায়, নূর আহাম্মদের লাইনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন নিহত একরাম হোসেন। তবে নূর আহম্মদের গঠন করা ‘দক্ষিণ বাইপাস সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি’তে ৫ হাজার টাকা লাইনের চার্জ দিতে অপারগতা জানান একরাম। তাই একরামকে খুনের পরিকল্পনা আঁটতে গত ২২ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড বাজারে বৈঠকে বসেন তারা। সেখানে নূর আহম্মদ হত্যার ছক অঁাঁকেন। ওইদিন রাতে একরামের সিএনজি অটোরিকশাকে অনুসরণ করতে করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মধ্যম মহাদেবপুর এলাকায় ইপসা অফিসের সামনে পৌঁছে গতিরোধ করেন তারা। সেখানে সবাই একরামকে উপর্যুপরি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হলে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে একরামকে হাসপাতালে নিয়ে যান গ্রেপ্তার জাহেদ হোসেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান একরাম।
এ ঘটনায় নিহত একরামের ভাই নুরুল হুদা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) নাজমুল হাসান বলেন, পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।