রাজধানীর বাজারে হঠাৎই বেড়েছে ডিমের দাম। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে হালিতে ৪ টাকা ও ডজন হিসেবে ১০ পর্যন্ত মূল্য বেড়েছে ডিমের দাম। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে প্রান্তিক খামারিরা বলছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিমের দাম বাড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। এতে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৫ টাকা করে ও ডজন হিসেবে ১৩০-১৩৫ টাকায়। অথচ প্রোটিন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যপণ্যটি গত তিন দিন আগেও প্রতি হালি ৪০ টাকায় ও ১২৫ টাকা ডজন দরে ডিম বিক্রি হয়েছে।
এদিকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করে প্রান্তিক খামারিরা বলেন, হঠাৎ করে ডিমের দাম বাড়ার পেছনে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত রয়েছে। তারা প্রতি পিস ডিম ৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৩৫ পয়সা করে বাজারজাত করে থাকেন। যা ডজন হিসেবে ১১১-১১২ টাকা পড়ে। আর শ-হিসাবে ৯৩০-৯৩৫ টাকা।
এ বিষয়ে পাবনা জেলার ডিম উৎপাদনকারী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, হঠাৎ করে ডিমের দাম বাড়ার পেছনে কোনো কারণ দেখছি না। খামারিদের পক্ষ থেকে ডিমের দাম বাড়ানো হয়নি।
টাঙ্গাইলের আরেক খামারি আলী আকবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, উৎপাদনের দিক থেকে আমরা লোকসানের সম্মুখীন হলেও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য ৯ টাকা ৩০ পয়সা করে ডিম বিক্রি করছি। সেই ডিম খুচরায় কিনতে গেলে ১১ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে ১ টাকা ৯৫ পয়সা বেশি দিতে হয়।
ফড়িয়াদের ভাষ্যমতে, প্রতি ১০০ ডিম তারা ৯৩০ থেকে ৯৩৫ টাকায় কিনে ৯৬০ টাকা করে বিক্রি করেন। এর মধ্যে একটি ডিমে তাদের যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ১০ পয়সা লাভ থাকে।
এ বিষয়ে ধামরাইয়ের ফড়িয়া জহির দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা একটি ডিমে মাত্র ১০ পয়সা লাভ করে থাকি। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে বাজার, পুলিশসহ অন্যান্য নামে-বেনামে চাঁদা দিয়ে প্রায় ১৫-১৭ পয়সা খরচ পড়ে যায়। এর মধ্যে অনেক সময় ডিম ভাঙা পড়ে। সব মিলিয়ে ভাগ্য ভালো থাকলে ৮-১০ পয়সা লাভ করে থাকি।
এ বিষয়ে ডিমের পাইকারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রতিটি ডিমে মাত্র ১০ পয়সা লাভ করে থাকেন। প্রতি ১০০ ডিম ফড়িয়াদের থেকে ৯৬০ টাকায় কিনে বাজারে ৯৭০ টাকা করে বিক্রি করেন। তবে সেই ডিম খোলাবাজারে গেলে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়।
কাপ্তান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আতাউর দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ডিমে ১০ পয়সা লাভে খোলাবাজারের জন্য ৯ টাকা ৭০ পয়সায় আমরা বিক্রি করে থাকি। কিন্তু সেই ডিম পাইকার বাজার থেকে খোলাবাজারে গিয়ে ১১ টাকা ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিমের বাজার সামনে ভয়াবহ অবস্থা হবে। এটি শুধু শুরু। আমরা বরাবর সরকারের ওপর মহলকে এ বিষয় নিয়ে সতর্ক করে এলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। অন্যদিকে প্রান্তিক খামারিরা দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। এতে পোলট্রি শিল্প ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য সরকারের পাশাপাশি করপোরেট ব্যবসায়ীরাও দায়ী। বর্তমানে এ শিল্পের বাজার একচেটিয়াভাবে তারাই দখল করে রেখেছে। তারা যা বলছে বাজারদর তো তাই হচ্ছে।