চট্রগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক যুবকের লাশের দাবিদার হয়েছে দু-পক্ষ।পরিবারের পাশাপাশি ওই লাশ দাবি করছে স্থানীয় গাউসিয়া কমিটি। নিহত যুবকের নাম রতন দাশ ওরফে আহমাদ। রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে পটিয়া উপজেলার বাদামতল মোড়ে তেলবাহী লরিচাপায় মৃত্যু হয় তার।
রতন দাশ মিরসরাই উপজেলার আবু তোরাব বাজার এলাকার মনো দাশ ও সন্ধ্যা রানী দাশের সন্তান। তিনি মায়ের সাথে নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সন্ধ্যা রানী দাশের দাবি, তার ছেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি, মৃত্যুর আগের দিনও বাসায় পূজা-অর্চনা করেছে । তাই তার ছেলেকে সনাতন ধর্মের রীতিতেই শেষকৃত্য করতে চান।
পটিয়া আদালতের আইনজীবী লীলা দে দেশ রুপান্তরকে বলেন, "সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের মা সন্ধ্যা রানী দাশ আদালতকে বলেছেন-তার ছেলের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি তিনি জানতেন না। তার বন্ধুরা বা গাউসিয়া কমিটি ছেলেরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়ে আদালতের যে এফিডেভিট দেখাচ্ছে সেটি ভুয়াও হতে পারে।" তিনি আরও বলেন,"
আদালত বলেছে,মরদেহ দাবিদার দুপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত রতন দাশ বা আহমাদের মরদেহ চট্রগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে। সেই সাথে পুলিশকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।"
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) স্নেহাংশু বিকাশ সরকার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের বিষয়ে আমরা আদালতকে প্রতিবেদন দিয়েছি। নিহত যুবকের কিছু বন্ধু তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে যে এফিডেভিট দেখাচ্ছেন সেটি আদালত কর্তৃক ডিক্লেরেশন হয়নি। বিষয়টি আমাদের হাতে নেই, এর ফয়সালা দেবেন আদালত।
নগরের মাদারবাড়ি বারকোয়ার্টার এলাকার বায়তুস সালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা নূর বলেন, নিহত যুবক ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর আমার কাছে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ১৭ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে একটি হলফনামা করেন।ধর্মান্তরিত হয়ে তার নাম রাখেন আহমাদ। তার মুসলমান হওয়ার সব প্রমাণ আমার কাছে আছে।“