বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের মাশুল জনগণকে বারবার দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ৪ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। গত মঙ্গলবার রাতে পুনরায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অনুগত লোকদের লাভবান করতে তাদের দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই তাদের বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের টাকায় আঙুল ফুলে কলাগাছ বানানো হচ্ছে। বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। এই পকেট কাটা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ আজ জেগে উঠেছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভ্রান্ত নীতির কারণে এমনিতেই জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এর মধ্যে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের গণবিরোধী, তুঘলকি ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। মাত্র ১৯ দিন আগে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এক দফায় বৃদ্ধি করেছে। ১৯ দিন পর আবার খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি সরকারের গণবিরোধী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জিনিসপত্রের দাম আবারও বৃদ্ধি পাবে। এই বোঝা জনগণ আর সহ্য করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের সরকার নয় বলেই সরকার চরম দুর্দিনেও বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ¦ালানি তেল, ভোজ্য তেল, সারসহ নিত্যপণ্যে দাম বারবার বৃদ্ধি করছে। এ বিষয়ে সরকারের অনুশোচনা নেই; বরং এসব তুঘলকি কা-ের পক্ষে নির্লজ্জের মতো মিথ্যাচার করছে। গণবিরোধী সরকার ১৪ বছরে ১১ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। গত বছর রেকর্ড হারে জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের দাম এক মাসেই রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।’
সরকার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খুচরা চালাকি করছে দাবি করে বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এত দিন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গণশুনানি করে দাম বাড়াত। সেখানেও সরকারের ইঙ্গিতে দাম বাড়ানো হতো। এবার সরকার নিজেই এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে দাম বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে।’
এই দাম বৃদ্ধি সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৪ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ১০ দফাসহ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সমাবেশ সফল করে সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই।’